Show Posts

This section allows you to view all posts made by this member. Note that you can only see posts made in areas you currently have access to.


Messages - Dr. Lamia Tahsin Kamal Purnata

Pages: [1] 2
1
প্রস্রাবে ইনফেকশন (Urinary tract infection) প্রতিরোধে/ প্রতিকারে  করনীয় --





💠প্রচুর পানি পান করতে হবে ও পানি জাতীয় খাবার খেতে হবে,গরমের সময় শরীর থেকে অতিরিক্ত ঘাম ও লবণ বেরিয়ে যাওয়ার কারণে কয়েক গ্লাস পানি বেশি খেতে হবে। এ ক্ষেত্রে লেবুর শরবত, ফলের রস, ডাব ইত্যাদি খাওয়া যেতে পারে।

💠প্রস্রাবের চাপ হলে, প্রস্রাব ধরে রাখা যাবে না।

💠 যৌনমিলনের আগে ও পরে প্রস্রাব করতে হবে ও পরিস্কার করতে হবে।

💠 যৌন মিলনে শুষ্কতা এড়াতে জেলি ব্যবহার করতে পারেন। তবে শুক্রাণুনাশক কোনো ওষুধ ব্যবহার করবেন না।

💠ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে হবে।

💠সুতি অন্তঃর্বাস ব্যবহার করতে হবে।

💠 মল ত্যাগের পর পায়ু এলাকা সামনে থেকে পেছনে ধুয়ে ফেলতে হবে, প্রস্রাব করার পর টয়লেট পেপার দিয়ে চেপে মুছতে হবে, কখনো ঘষবেন না এবং পায়খানার রাস্তা থেকে প্রস্তাবের রাস্তার দিকে কখনো মুছবেন না।
 তাতে পায়ু এলাকা থেকে মূত্রনালিতে ব্যাকটেরিয়া প্রবেশের ঝুঁকি কমবে।

💠কোষ্ঠ্যকাঠিন্য এড়িয়ে চলতে হবে। যাঁদের এ সমস্যা রয়েছে তাঁরা প্রচুর পানি পানের পাশাপাশি আঁশযুক্ত খাবার, যেমন- শাকসবজি, সালাদ, ফল, ইসবগুলের ভুসি ইত্যাদি বেশি করে খাবেন। তবে ইসবগুলের ভুসি ভিজিয়ে না রেখে সঙ্গে সঙ্গে খাবেন।

💠মাসিকের সময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে হবে।

💠 মাসিক বা রজঃস্রাবের সময় যৌন মিলন করবেন না।

💠 যাদের মেনোপজ হয়ে গেছে তাদের বারবার ইউটিআই বা প্রস্রাবে জীবাণু সংক্রমণ হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী যোনিপথে এবং মূত্রনালির মুখে ইস্ট্রোজেন ক্রিম ব্যবহার করতে হতে পারে।

💠 রিকারেন্ট ইউটিআইয়ের ক্ষেত্রে স্বল্পমাত্রার অ্যান্টিবায়োটিক দীর্ঘদিন সেবন করতে হতে পারে।

💠কর্মরত মহিলাদের, স্কুল-কলেজের মেয়েদের প্রয়োজনে সাধ্যমতো উপযুক্ত ও স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেটের ব্যবস্থা করতে হবে।





👉ঘরে বসে চিকিৎসাঃ


* পর্যাপ্ত পানি পান করুন। এতে প্রচুর প্রস্রাব হবে, জীবাণু প্রস্রাবের মাধ্যমে বহুলাংশে বের হয়ে যাবে।

* যেসব খাবারে ক্যাফেইন আছে, যেমন কফি-অ্যালকোহল-কোমলপানীয় ইত্যাদি ইউরিন ইনফেকশন ভালো না হওয়া পর্যন্ত এড়িয়ে চলুন।

* তলপেটে হালকা গরম সেঁক দিলে আরাম পাওয়া যায়। তবে বেশি তাপমাত্রার সেঁক দেওয়া যাবে না।

*ক্র‍্যানবেরী জুস নিয়মিতভাবে খেলে প্রস্রাবে ইনফেকশন কম হবে।

* গরমের দিনে দই খেতে পারেন।






প্রস্রাবে জীবাণু সংক্রমণের উপসর্গ দেখা দিলে অবশ্যই সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। প্রস্রাব পরীক্ষা করে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করতে হবে। যথাযথ চিকিৎসা না করালে স্থায়ীভাবে কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

2
Women's Health / মেয়েদের মুড সুইং!
« on: May 21, 2023, 01:41:46 PM »
মেয়েদের মুড সুইং হওয়ার কারণ?




যখন একজন মানুষের মেজাজ খুব দ্রুত পরিবর্তন হয় এবং হতেই থাকে সে আবস্থাকে মুডসুইং বা মনের এক আজব অসুখ বলে। এটি হরমোনাল কারণে হয় সাধারণত। নারীরা এই অসুখে বেশি ভুগছেন। মেয়েদের হরমোন এর ওঠানামা ছেলেদের থেকে কিছুটা জটিল ধরণের। শুধু ছেলেরা না মেয়েদের ও এই ব্যাপারগুলো কেন হয় জানা উচিত। তাহলে সে নিজেকে অথবা আশেপাশের মেয়েগুলোকে সাহায্য করতে পারবে। সাধারণত মেয়েদের মুড একটা নির্দিষ্ট প্যাটার্নে চেঞ্জ হয়। মেয়েদের Monthly Cycle সম্পর্কে কিছুটা হলেও সবাই জানে আশা করি। এই সাইকেলের জন্য দায়ী প্রধান দুটি হরমোন হচ্ছে Estrogen এবং Progesteron। এটা চারটা সপ্তাহে বিভক্ত। প্রথম সপ্তাহ শুরু হয় Menstrual cycle শেষ হওয়ার পরদিন থেকে। প্রত্যেকটা সপ্তাহের একটু ছোট বিবরণ দেব।






 প্রথম সপ্তাহ
↓↓↓
এই সপ্তাহে Estrogen এর মাত্রা বাড়তে থাকে। তাই মেয়েরা এই সময় আশাবাদী এবং উদ্যমী থাকে। আগের সপ্তাহের বিভীষিকা ভুলে দেহের সাথে মন ও নতুন করে উদ্যম সঞ্চয় করে।


 দ্বিতীয় সপ্তাহ
↓↓↓
Estrogen সর্বোচ্চ থাকে এই সপ্তাহে। ফলাফল, স্বর্গীয় সৌন্দর্য, অবারিত উদ্যম, আর অনেক অনেক পজিটিভিটি এবং
কনফিডেন্স থাকে মেয়েদের ভিতর। এই সপ্তাহটা মেয়েদের জন্য সবথেকে আনন্দের।


 তৃতীয় সপ্তাহ
↓↓↓
এই সপ্তাহে Estrogen এর মাত্রা কমতে থাকে। তাই সবকিছুই একটু নিচের দিকে যেতে থাকে। উদ্যম, সৌন্দর্য এবং যাবতীয় ধনাত্মক গুনাবলি এই সপ্তাহে মেয়েদের মধ্যে সন্দেহ আর হীনমন্যতা দেখা যায় কিছুটা। এমনকি তারা এই সময়ে কিছুটা ইনসিকিউরড ফিল করে। কিছুটা খিটখিটে, খামখেয়ালি, মনমরা আচরণ করতে পারে।


 চতুর্থ সপ্তাহ
↓↓↓
এই সপ্তাহের Estrogen and Progesterone মোটামুটি "পাগলের" মত দিক-বেদিক ছোটাছুটি করে। ফলাফল ভয়াবহ মুড সুইং। রাগ, কান্না, খিটখিট মেজাজ, depression, fatigue, ব্যথা – সবই হয় বাঁধনছাড়া। এই সময় সব কিছুই অসহ্য লাগে। বিশ্বাস করুন আর নাই করুন অনেক মেয়ের মধ্যে "আত্নহত্যার" ভাবনাও আসে!







3
একটি শিশুর বেড়ে উঠা এবং পর্যাপ্ত পুষ্টির জন্য সঠিক মাত্রা ও সুষম খাদ্য গ্রহণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সদ্য জন্ম নেওয়া নবজাতক থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সের শিশুদের দৈহিক পুষ্টির চাহিদা এবং খাদ্যতালিকাও এক নয়। বয়স অনুযায়ী তৈরি করতে হবে শিশুর সঠিক খাদ্যতালিকা।




টিভির বিজ্ঞাপনের মতো আরাবিও এইমাত্র সুজির চামচ মুখে নিল কি নিল না দিল ভো দৌড়, এদিকে আরাবির আম্মুও বাটি নিয়ে পিছু পিছু দৌড়। যেন টম এন্ড জেরি খেলা। খুব ছোট বয়সে পুষ্টিকর খিচুড়ি জাতীয় খাবারও তাকে খাওয়াতে হতো জোর করে করে। ফলস্বরূপ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার অভাব, পুষ্টিহীনতা, অ্যানিমিয়া একের পর এক রোগ লেগেই থাকে। আর আছে অস্বাস্থ্যকর খাদ্যের প্রতিই যত ঝোঁক। ফল-সবজি খাওয়ার অভ্যাস তৈরি করানো কিংবা প্রচেষ্টা করার দুঃসাহস ও যেন করতে পারছেন না। মাঝে মাঝে বুঝেও উঠতে পারছেন না সঠিক বয়সে কোন খাবার কিভাবে দেওয়া উচিত। শিশুদের বয়স অনুযায়ী খাদ্য ও পুষ্টি তালিকা নিয়ে মায়েদের নিত্যদিনের ভোগান্তি এবং তা জানার অভাব-আগ্রহ নিয়েই আজকের এই আয়োজন।

প্রথম ৬ মাসের জন্য, বুকের দুধ বা ফর্মুলা (যদি মায়ের দুধ না পেয়ে থাকে) হল একমাত্র খাবার যা একটি নবজাতকের সকল পুষ্টি চাহিদা পূরণ করে। এরপরে শিশুর অন্যান্য খাবার খাওয়ার লক্ষণ দেখা দিলে একটু করে শক্ত খাবার শুরু করাতে হবে। প্রথমে ছোট্ট সোনামণিদের প্রতিদিন মাত্র কয়েক চা চামচ করে এক-উপাদানযুক্ত খাবার (যেমন একটি বিশুদ্ধ ফল বা  শাকসবজি বা মাংস) দিয়ে শুরু করতে হবে। কয়েক মাসের মধ্যে শিশুরা বিভিন্ন খাবার এবং দিনে এক থেকে দুই খাবারের জন্য প্রস্তুত হয়ে যাবে। ৮ থেকে ১২ মাস বয়সের মধ্যে শিশুদের মাঝে বিভিন্ন খাবারের প্রতি উৎসাহ খেয়াল করা যায় যারা মায়ের হাতের নরম খাবার উপভোগ করতে থাকে এবং প্রতিদিন তিন বেলা খাবারের সাথে হালকা নাস্তাও খেতে চায়।




নবজাতক থেকে ছয় মাস




নবজাতক সহ দুই বছর বয়স পর্যন্ত শিশুদের দৈহিক ও মানসিক সুষ্ঠ বিকাশের জন্য মায়ের বুকের দুধ অন্যতম ভূমিকা পালন করে। বিশেষ করে সন্তান প্রশবের পর প্রথম যে হলুদ বর্ণের শাল দুধ রয়েছে তা নবজাতকের প্রাকৃতিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি ও অন্যান্য পুষ্টিগুণ সরবরাহের জন্য দায়ী। কিন্তু অধিকাংশ মা ই তা নবজাতকের জন্য তা ক্ষতিকর আশংকা করে, কুসংস্কারে বিশ্বাসী হয়ে ফেলে দেন যা একদম উচিত নয় বরং শিশুর জন্য এই শাল দুধ না পাওয়াটা ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

জন্ম হওয়ার পর থেকে ছয় মাস বয়স পর্যন্ত শিশুকে মায়ের বুকের দুধ ছাড়া অন্য কোন ধরনের খাবার, পানীয়, গরু-ছাগলের দুধ, প্রক্রিয়াজাত দুধ, পান করানো থেকে বিরত থাকতে হবে। এছাড়াও শিশুকে বুকের দুধ পান করানোর ফলে মাতৃস্বাস্থ্যের বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সার (স্তন,জরায়ু ইত্যাদি) ঝুঁকি অনেকাংশে কমে যায়।
তবে শিশু যদি যথাযথ ভাবে নায়ের দুধ না পেয়ে থাকে তবে একজন শিশু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে।




৬ মাস থেকে ১২ মাস



ছয় মাস থেকে এক বছর বয়সী শিশুদের প্রধান খাদ্য মায়ের বুকের দুধ এর পাশাপাশি দুই থেকে তিনবেলা অল্প পরিমাণে অন্যান্য খাবার দেওয়া প্রয়োজন।

- নরম ও সহজপাচ্য হবে এমন চাল-ডাল-সবজি সহযোগে খিচুড়ি

- ফল বা ফলের রস

- অল্প ডিম বা অল্প কুসুম (অবশ্যই পুষ্টিগুণ ঠিক থাকে এরকম ভাবে রান্না করা অথবা উত্তম হয় সেদ্ধ করলে)

- অল্প মাছ (ভালভাবে কাঁটা ছাড়িয়ে মিশিয়ে খাবার উপযোগী করে দেওয়া)

- সুজি

- সাবু

- ঘরে তৈরিকৃত ভেজালহীন স্বাস্থ্যকর খাবার, তরকারি, ইত্যাদি।

এসকল খাবার ধাপে ধাপে অল্প অল্প পরিমাণে শিশুর দৈনিক খাদ্য তালিকার সংযুক্ত করা।

একঘেয়েমি এড়ানোর জন্য নিত্যনতুন খাদ্যতালিকা পরিবর্তন করা ও শিশু নিজে থেকে আগ্রহী বা আকৃষ্ট হয় এরূপ ভাবে খাদ্য পরিবেশন করা। এটি শিশুর বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশ সাধনে সহায়তা করবে।

এছাড়া জোরপূর্বক কোন প্রকার খাবার গ্রহণে শিশু কে বাধ্য না করাই উত্তম এবং সেই সাথে ওন খাবার গ্রহণে শিশুর দৈহিক বিকাশ কিরুপ হচ্ছ, তার পাকস্থলীয় হজমশক্তি কিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে, এলার্জিক প্রতিক্রিয়া কিরূপ মাত্রায় প্রদর্শন করছে কিনা ইত্যাদি বিষয়েও সজাক দৃষ্টি দেওয়া প্রয়োজন।




১ বছর থেকে ২ বছর



এই সময় শিশু নরম ও শক্ত উভয় ধরনের খাবার গ্রহণের জন্য যথেষ্ট পরিপক্ক হয়। এ সময় থেকেই শিশুর দৈহিক বিকাশ তুলনামূলক দ্রুত হয়। তাই খাদ্য পিরামিড, পুষ্টি পিরামিড থেকে সকল ধরনের পুষ্টিমান বহন করে এরূপ খাবারগুলো বাছাই করা উচিত।

বিভিন্ন ধরনের সবুজ ও রঙ্গিন শাক-সবজি (অবশ্যই সঠিক পদ্ধতিতে সহজপাচ্য করে রান্না করা)

ফল যা চোখ এর দৃষ্টিশক্তি বিকাশ ও বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে

মাছ, মাংস, ডিম, গরুর দুধ, দুগ্ধজাত খাবার-মিষ্টান্ন গ্রহণে উদ্ধুদ্ধ করা যা হাড়ের বিকাশ, গঠন,দৃঢ়তা দানে, মানসিক বিকাশ ঘটাতে ভূমিকা রাখে

ঘরে তৈরি কৃত অন্যান্য খাবার অল্প পরিমাণে শিশুর সাথে পরিচিত করা ও গ্রহণে আগ্রহী করে তোলা

প্রতিদিন খাদ্য গ্রহণের নির্দিষ্ট  সময়, পরিমাণ, নিজস্ব পছন্দ বুঝতে পারা এবং বুঝাতে পারা ইত্যাদি সম্পর্কে অভ্যস্ত করে তোলাও জরুরী।




২ বছর এর অধিক বয়সী



এরুপ বয়সের শিশুদের দৈনন্দিন স্বাভাবিক খাবারের সাথে ধাপে ধাপে অভ্যস্ত করে তুলতে হবে।

শুধু মাত্র সহজপাচ্য, তরল বা নরম নয় বরং শক্ত, তৈলাক্ত, তুলনামূলক পরিমাণ বৃদ্ধি করে এমন সব ধরনের স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণে উৎসাহিত ও অভ্যস্ত করা উচিত।

জাঙ্ক ফুড এবং কোমল পানীয় এড়িয়ে চলতে হবে। ক্রিস্প, কুকিজ, কেক, সোডা এবং ক্যান্ডির মতো কারখানায় তৈরি স্ন্যাকসগুলি অস্বাস্থ্যকর। এগুলিতে প্রচুর পরিমাণে চিনি, লবণ, চর্বি এবং রাসায়নিক রয়েছে যা শিশুর জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।





শিশুদের বাড়ন্ত শরীরের চাহিদা অনুযায়ী পুষ্টি যেন অনীহায় ফেলে রাখা বাটিতেই না রয়ে যায়। একটি সুস্থ ও সৃজনশীল ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ার জন্য মায়েদের প্রচেষ্টা হোক আরও সহজ ও সুন্দর।





















source: aastha.life/

4




মা হওয়ার পর কেটে গেছে একটা মাস। এক বিয়েবাড়ির নেমন্তন্নে যেতে অনেকদিন পর বার করলেন সাধের বালুচরী শাড়িখানি। সাজগোজ শুরু হওয়ার প্রথম পদক্ষেপেই মনে জোর ধাক্কা। ব্লাউজটা হাতে ঢুকছেই না! একটু মুষড়ে গিয়ে এবার বেরলো জামদানি, তারপরে তসর, তারপরে ঢাকাই। এবং একটারও ব্লাউজ আপনার গায়ে হল না। অথচ মাত্র এক বছর আগে, এই শাড়ি-ব্লাউজ পরেই ননদের বিয়েতে চোখ টেনেছেন সব্বার। এ কী হল আপনার সাথে? মনে মনে চরম মুষড়ে পড়ে, আজ আয়নায় অনেকদিন পরে নিজেকে খুঁটিয়ে দেখলেন আপনি। আর ভালোই বুঝতে পারলেন, আপনার শরীরের আনাচে কানাচে বাসা বেঁধেছে থলথলে চর্বি। বেশ খানিকটা মোটা হয়ে পড়েছেন আগের থেকে।

দুঃখ পাওয়ার তো কিছু নেই! এটাই হওয়ার ছিল। প্রেগন্যান্সিতে ওজন বাড়বে এটাই তো স্বাভাবিক এবং সুস্থ গর্ভকালের লক্ষণ। অস্বাভাবিক যেটা, সেটা হল ডেলিভারির পর একটা নির্দিষ্ট সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরেও সেই মেদ কমানোর চেষ্টা না করা। বা, বলতে পারি নিজের শরীর সম্পর্কে সচেতন না হওয়া। স্থূলত্ব সর্বদা ক্ষতিকর আর বহু রোগের কারণ।

শুধু সবার চোখে সুন্দর ছিপছিপে থাকার জন্য নয়, নিজের শরীরের ভিতরটা সুস্থ রাখতেও অতিরিক্ত মেদ কমানো প্রয়োজন। আজ না হয় একটা ব্লাউজের সেলাই খুলে সেটা পরে বিয়েবাড়ি ঘুরে এলেন, কিন্তু আপনার ছোট্ট রানির প্রথম জন্মদিনে যে আর কোনও জামা/ব্লাউজের সেলাই খুলতে হবে না, তার দায়িত্ব আমাদের...  একটু নিবেদিত প্রাণ হয়ে এই সহজ নির্দেশগুলো মেনে চলুন, আপনার ওজন কমতে বাধ্য। ভালো করে পড়ে ফেলুন আজকের এই প্রতিবেদন। আর জেনে নিন কীভাবে সহজে বিদায় করবেন ‘বেবি ওয়েট’...

 

 

‘বেবি ওয়েট’ কী?
চিকিৎসকদের মত অনুযায়ী, গর্ভাবস্থায় একজন সুস্থ মহিলার প্রায় ১১.৫-১৮ কিলোগ্রাম পর্যন্ত ওজন বাড়তে পারে। গর্ভস্থ বাচ্চার ওজন ছাড়াও এই অতিরিক্ত ওজনের জন্য দায়ী থাকে অ্যামনিওটিক ফ্লুয়িড, প্লাসেন্টা, ব্রেস্ট-টিস্যু, আকারে বেড়ে যাওয়া জরায়ু, রক্ত এবং কিছু অতিরিক্ত চর্বি। হবু মায়ের শরীরকে প্রসবের জন্য প্রস্তুত করা ও ব্রেস্ট ফিডিং-এর জন্য এনার্জি সঞ্চয় করে রাখাই এই অতিরিক্ত চর্বির প্রধান কাজ।

প্রেগন্যান্সির সময়ে মায়ের শরীরের অভ্যন্তরে ঘটা এই সব ক্রিয়াকলাপ বা খাদ্যাভ্যাস বা চেহারার ধাতের প্রভাবে যদি প্রয়োজনের তুলনায় বেশি চর্বি জমে যায়, তা হলে তাকে ‘বেবি ওয়েট’ বলা হয়। এই ‘বেবি ওয়েট’ কিন্তু বেশিরভাগ মায়ের কপালেই জুটে যায় এবং এটি অত্যন্ত সাধারণ ও স্বাভাবিক ঘটনা। থলথলে চর্বিওয়ালা পেট, প্রশস্ত কোমর ও নিতম্ব এই অতিরিক্ত ওজনের প্রতীক হয়েই ধরা দেয় নতুন মায়ের কাছে।

বাচ্চা হয়ে যাওয়ার পরে খানিক সুস্থ হয়েই যদি সঠিক ডায়েট আর হালকা শরীরচর্চা মেনে চলা হয়, তা হলে কিন্তু এই বেবি ওয়েট বা এক্সট্রা মেদ ঝরিয়ে ফেলা একেবারেই হাতি-ঘোড়া কিছু কাজ নয়...... প্রয়োজন শুধু সঠিক সময়ে সতর্কতার।



জেনে রাখুন ক্যালোরি ও নিউট্রিয়েন্টস-এর চাহিদা:
বাচ্চা হওয়ার পরে মায়ের শরীর সুস্থ হতে কিন্তু সঠিক খাদ্যাভ্যাস অত্যন্ত প্রয়োজন। আবার যেসব মায়েরা এক্সক্লুসিভ ব্রেস্ট ফিডিং করান, তাদের জন্য তো ডায়েটটা ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। দৈনন্দিন ক্যালোরির চাহিদা নির্ভর করে মেটাবলিজম রেট, সে কতটা সক্রিয় এবং বয়সের ওপর।
নতুন মায়ের ক্ষেত্রে যেহেতু মা ও বাচ্চার স্বাস্থ্য একে ওপরের সাথে জড়িত, তাই এক্সট্রা গুরুত্ব দিতে হয় মায়ের ডায়েট চার্টে। ডায়েটিশিয়ানের কথা অনুযায়ী, ওজন কমাতেও সাহায্য করবে অথচ মা ও বাচ্চার পুষ্টিতেও কোনও ব্যাঘাত ঘটবে না, এরকমই একটা চার্ট সাধারণ ভাবে ছকে দেওয়ার চেষ্টা করলাম।


প্রেগনেন্সির পর বাড়তি ওজন কম করবেন কীভাবে? (Simple & Useful Tips for Losing Weight after Pregnancy)
প্রেগন্যান্সির পরে ওজন কমানোর সহজ, নিরাপদ অথচ কার্যকর কিছু টিপস;
সবদিক বজায় রেখে, নিজের ওপর একটু মনোযোগ দিলেই কিন্তু সহজে ও নিরাপদে ওজন কমা সম্ভব। তবে, এই ওজন কমানোর চ্যালেঞ্জ নেওয়ার আগে কতগুলো কথা ভালো করে মাথায় ঢুকিয়ে ফেলুন;

 

কারও সাথে তুলনা করবেন না: চ্যালেঞ্জ করুন নিজের সাথে নিজের। কখনওই অন্য মায়েদের ছিপছিপে ফিগার দেখে বা সেলেব্রিটি মায়েদের চেহারার সাথে তাল মিলিয়ে নিজের ওজন কমাতে যাবেন না।
 

বাস্তববাদী চিন্তাভাবনা করুন: মোটামুটি একটা টার্গেট মাথায় নিয়ে প্রস্তুতি নিন। ৩ মাসে আমাকে ১০ কেজি কমিয়ে ফেলতেই হবে, এই ভাবনা নিয়ে মোটেও এগোবেন না। শরীরকে সেরে উঠতে সময় দিন, ওজন কমাতে গিয়ে তার ওপর অত্যাচার করবেন না। তাতে সময় লাগবে হয়তো আরও ৪ মাস, কিন্তু আপনি ভালো থাকবেন।
 

কোনও ভাবেই হীনমন্যতায় ভুগবেন না: মনের আনন্দে ব্যায়াম করুন ও খাওয়াদাওয়া করুন। মনে রাখবেন আপনি সবথেকে সুন্দর একজন ‘মা’।
 

নিজের ওপর আস্থা রাখুন ও ধৈর্য ধরুন: একমাস পরে যদি কোনও ফলাফল চোখে না পড়ে, তা হলে হাল ছাড়বেন না। নিজের ওপর আস্থা রাখুন, ধৈর্য ধরুন, রোগা আপনি হবেনই।
 

 




ওজন কমাতে কী কী করতে পারেন (Tips for Losing Weight after Pregnancy)
 


#1.বাচ্চাকে ব্রেস্ট ফিডিং করান: জানেন কি, বাচ্চাকে ব্রেস্ট ফিড করালে দৈনিক প্রায় ৫০০ ক্যালোরি খরচ হয়। যা কি না শরীরচর্চারই সমান। বিনা ঝক্কিতে বাচ্চাকে ব্রেস্ট ফিড করিয়ে যদি সুন্দর ক্যালোরি বার্ন করতে পারেন, এর থেকে ভালো কিছু হয় নাকি! সাধেই কি বলে, ব্রেস্ট ফিড শুধু বাচ্চা নয়, মায়ের জন্যও সমান জরুরি।

 

#2. ব্রেকফাস্ট বাদ দেবেন না: বাচ্চার দেখভাল করতে গিয়ে নিজের ব্রেকফাস্ট কোনও ভাবেই বাদ দেবেন না বা দুপুর ১২ টায় ব্রেকফাস্ট করবেন না। সময়মতো খাবার খান।

 

#3. ব্যালান্সড ডায়েট মেনে চলুন: খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনুন।  প্রয়োজনে একজন পুষ্টিবিদ বা ডায়েটিশিয়ানের পরামর্শ নিন। আপনি যেহেতু সদ্য মা হয়েছেন, তাই আপনার সাথে সাথে আপনার বাচ্চারও পুষ্টি জড়িত। তাই ডায়েট বানান সাবধানে,

প্রচুর পরিমাণে জল খান, দিনে প্রায় ৪ লিটার।
রোজের খাদ্যতালিকায় রাখুন শাকসবজি এবং ফলমূল।
প্রত্যেকদিন টক দই বা কিছু লো ফ্যাট ডেয়ারি প্রোডাক্ট খান।
ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার যেমন ওটস, বিনস, বীজ জাতীয় শস্য, ডাল খান নিয়মিত।
চিনি, ফ্রায়েড খাবার, কোল্ড ড্রিঙ্ক এবং মিষ্টি জাতীয় সবকিছু এড়িয়ে চলুন।
মাছ, চিকেন, ডিম রাখুন রোজের খাবারে।
সাধারণ চালের ভাতের বদলে শুরু করুন ব্রাউন রাইস খাওয়া। কার্বোহাইড্রেট পুরো বন্ধ করবেন না। প্রত্যেক বড় মিলের এক তৃতীয়াংশে রাখুন সাধারণ রুটি/ভাতের মতো খাবার।
বেশি তেলমশলা, ঘী, বাটার, চিজ এগুলো এড়িয়ে চলুন।
প্রত্যেকদিন সকালে খালি পেটে আদা চা, জিরে চা বা লেবু মধু দিয়ে ঈষদুষ্ণ গরম জল খেতে পারেন মেটাবলিজম বাড়ানোর জন্য।
দুধ চা ছেড়ে অভ্যেস করুন গ্রিন টি খাওয়ার।
 

#4. সারাদিনে ৫-৬ বার অল্প অল্প খান: সারাদিনে কিছু না কিছু খাবার খান কিন্ত একেবারে অনেকটা খাবেন না। অনেক গ্যাপ দিয়ে খাবার খাবেন না। দ্রুত ওজন কমানোর চাবিকাঠি এটাই।

 

#5. এক্সারসাইজ শুরু করুন: নরমাল ডেলিভারি হোক বা সিজারিয়ান, ডেলিভারির ধাক্কা সামলে উঠে ডাক্তারের অনুমতি নিয়ে শুরু করে দিন হালকা শরীরচর্চা। নরমাল ডেলিভারির ক্ষেত্রে আপনি হয়তো বেশ তাড়াতাড়িই এক্সারসাইজ শুরু করতে পারবেন। কিন্তু সি-সেকশন হলে, কয়েকটা মাস একটু সেরে উঠুন। ডাক্তারের অনুমতি নিয়েই ব্যায়াম করুন।

প্রত্যেকদিন হাঁটুন। খুব কষ্টদায়ক ব্যায়াম করতে না পারলে বা ডাক্তার বারণ করলে ওনার অনুমতি নিয়ে রোজ অন্তত আধঘণ্টা হাঁটুন।
যোগাসন শুরু করতে পারেন। সেক্ষেত্রে দক্ষ ট্রেনারের কাছে শিখে যোগাসন করুন।
জগিং, ট্রেডমিলে হাঁটা, বিভিন্ন বডি ক্রাঞ্চ ও অ্যাবস এক্সারসাইজ ঝটপট পেট ও কোমরের মেদ কমিয়ে ফেলতে সাহায্য করে। বডি মাসল টোন করতেও বিশেষ উপকারী।
দরজা বন্ধ করে মনের মতো গান চালিয়ে নাচুন। এরোবিক্স ও জুম্বার তালে তালে করুন শরীরচর্চা। মেদ তো ঝরবেই, উপরন্তু মনও ফুরফুরে থাকবে। রোজ ১ ঘণ্টা নাচুন দেখি, মেদ কোথায় পালাবে বুঝতেও পারবেন না।
ইচ্ছে হলে করতে পারেন প্রাণায়ামও। তবে এক্ষেত্রে আগে ভালো করে কারও কাছে শিখে তবেই করুন।
সময় বার করে যদি জিমে যাওয়া শুরু করেন। তা হলে আপনার ট্রেনারকে জানিয়ে রাখুন যে আপনি কিছুদিন হল মা হয়েছেন। সেক্ষেত্রে ওয়েট ট্রেনিং-এর ব্যাপারে উনি বিশেষ সতর্কতা নিতে পারবেন।
পেলভিক মাসলের জোর ফিরে পেতে শুরু করুন কিগেল এক্সারসাইজ।
প্রচণ্ড কষ্ট করে কোনও ব্যায়াম করবেন না।
 






#6. বাচ্চাকে সাথে নিয়ে প্ল্যান বানান: একা একা যদি ভালো না লাগে, বাচ্চাকে নিয়েই করুন শরীরচর্চা। ওকে কোলে নিয়ে ঘুরতে যান, হেঁটে আসুন কাছাকাছি কোনও পার্কে বেশ কয়েক পাক। ক্রাঞ্চ করার সময় ওয়েট হিসেবে ব্যবহার করুন ওই পুঁচকেটাকেই। তবে অবশ্যই, ডাক্তার বা ফিটনেস ট্রেনারের অনুমতি নিয়ে।

 

#৭.পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন: শুধু ডায়েট ও শরীরচর্চাই নয়, প্রয়োজন পর্যাপ্ত ঘুমেরও। চেষ্টা করুন প্রতিদিন অন্তত ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমোতে। প্রয়োজনে বাচ্চার দেখভালে স্বামীর সাহায্য নিন ।

একটু ধৈর্য ধরুন আর খাওয়া দাওয়ায় নজর দিন। কয়েকমাসের মধ্যেই ফিরে পাবেন আবার আগের চেহারা। ব্যায়াম শুরু করার আগে ডাক্তারের অনুমতি নিয়ে নিন অবশ্যই।













Source : bangla.babydestination.com/

5



গ্রীষ্মের প্রথম দিকে তেমন গরম অনুভূত না হলেও জ্যৈষ্ঠের সাথেই শুরু হয়েছে দাবদাহ। ইতোমধ্যে রাজধানীসহ সারা দেশেই পারদ ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছুঁয়েছে। আবহাওয়া অফিস থেকেও জানানো হয়েছে আগামী দুই দিন বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই। পূর্বাভাস বলছে চলমান দাবদাহ আরো চার দিন পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। এমন গরমে দীর্ঘ সময় রোদে থাকলে হিটস্ট্রোক হয়ে অসুস্থ হয়ে যেতে পারে লোকজন। শিশু ও বয়স্কদের জন্য এই ঝুঁকি আরো বেশি।


গরম থেকে রক্ষা পেতে যা করবেন

১. পাতলা ও হালকা রঙের পোশাক পরুন

২. বাড়ির বাইরে থাকার সময় সরাসরি রোদ এড়িয়ে চলার চেষ্টা করুন

৩. শরীরে পানিশূন্যতা এড়াতে অতিরিক্ত পানি ও শরবত পান করতে হবে

৪. স্যালাইন পানিতে থাকা সোডিয়াম, পটাশিয়াম ও চিনি শরীর সজীব রাখতে বিশেষভাবে কার্যকর। দীর্ঘ সময় গরমে থাকলে স্যালাইন পান করুন।

৫. গ্রীষ্মকালীন ফল দিয়ে তৈরি তাজা জুস পান করুন

৬. মাংস এড়িয়ে বেশি করে ফল ও সবজী খান

৭. প্রস্রাবের রঙ খেয়াল করুন। প্রস্রাবের গাঢ় রঙ পানি স্বল্পতার লক্ষণ।

৮. সব সময় ছাতা বা টুপি সাথে রাখুন

৯. ত্বককে সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে রক্ষা করতে সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন

১০. চেষ্টা করুন যেন দিনে কম বাইরে যেতে হয়






 

হিটস্ট্রোক কী

ঢাকার আইসিডিডিআর’বি হাসপাতালের চিকিৎসক ড. আলিয়া নাহীদ জানান, বাইরে তাপমাত্রা যাই হোক না কেন আমাদের শরীর স্বয়ংক্রিয়ভাবে তাপমাত্রা প্রায় স্থির রাখতে সক্ষম। কিন্তু অতিরিক্ত গরমে শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা কাজ করা বন্ধ করে দিলে তখন তাকে হিট স্ট্রোক বলা হয়। এর ফলে ঘাম বন্ধ হয়ে গিয়ে শরীরের তাপমাত্রা দ্রুত বাড়তে শুরু করে।

হিটস্ট্রোকের লক্ষণ

১. শরীরের তাপমাত্রা দ্রুত বেড়ে যাওয়া

২. গরমে অচেতন হয়ে যাওয়

৩. মাথা ঘোরা

৪. তীব্র মাথা ব্যথা

৫. ঘাম কমে যাওয়া

৬. ত্বক গরম ও শুষ্ক হয়ে যাওয়া

৭. শারীরিক দুর্বলতা ও পেশিতে টান অনুভব করা

৮. বমি হওয়া

৯. হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া

১০. শ্বাস কষ্ট

১১. মানসিক বিভ্রম

১২. খিঁচুনি








হিটস্ট্রোকের প্রাথমিক চিকিৎসা

কারো হিটস্ট্রোক হলে বা অচেতন হয়ে গেলে যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। এই সময়ের মধ্যে যে কাজগুলো করতে হবে তা হলো:

১. হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত ব্যক্তিকে অপেক্ষাকৃত ঠান্ডা বা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘরে নিয়ে যেতে হবে। রোগীর শরীর থেকে অপ্রয়োজনীয় কাপড় খুলে ফেলতে হবে।

২. রোগীর শরীরে বাতাস করতে হবে। কাপড় ঠান্ডা পানিতে ভিজিয়ে গা মুছে ফেলতে হবে।

৩. শরীরের তাপমাত্রা কমাতে বগল, ঘাড়, পিঠ ও কুচকিতে আইসপ্যাক ব্যবহার করতে হবে।




দেখতে দেখতে একটি বছর চলে গেল। বছর ঘুরে আবার রমজান সামনে এসেছে। প্রতিবছরের ন্যায় এবারও ধর্মপ্রাণ মুসল্লীরা রোজা রাখবে।

তবে অন্যান্য বছরের চেয়ে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে এবার রমজানে। এবার রোজার বেশিরভাগটাই পড়েছে গরমের ভিতর।

তীব্র গরম এবং তাপদাহে অনেকেই রোজা রাখতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন। কিছু সতর্কতা অবলম্বন করলে এবং কিছু অভ্যাস গড়ে তুললে তীব্র গরমেও রোজা রেখে সুস্থ থাকা যায়।

বিশেষজ্ঞ পুষ্টিবিদের মতে বছরের অন্যান্য সময়টাতে আমাদের খাবার হজম করতে পরিপাকতন্ত্র ব্যস্ত থাকে।

কিন্তু রোজার এই এক মাস পরিপাকতন্ত্র কিছুটা বিশ্রাম পায়। ফলে রোজা রাখা স্বাস্থ্যের জন্য অনেক উপকারী।

আন্তর্জাতিক গবেষণায় উঠে এসেছে যে মানব শরীরের পরিপাকতন্ত্রের একটি বিষয় রয়েছে যেটিকে অটোফেজি নামে অভিহিত করা হয়।

বিশিষ্ট জাপানিস বিজ্ঞানী গবেষণা করে প্রমাণ করেন যে রোজা রাখা শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী।

এটি আমাদের শরীরকে পুনর্জীবিত করে এবং পরিপাকতন্ত্রকে একটি শক্তিশালী প্রক্রিয়ায় পরিণত করে। তাই রোজা রাখা শরীরের জন্য অত্যন্ত উপযোগী।

আবার ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে রোজার গুরুত্ব অপরিসীম।

তবে অনেকেই তীব্র গরমে রোজা থাকতে ভয় পান। অনেকের ডিহাইড্রশন, পরিপাকতন্ত্রের বিভিন্ন অসুবিধা যেমন বদহজম, পেট ফাঁপা, পেটের ভিতর অস্বস্তি ইত্যাদি দেখা যায়।

এর কারণ হিসেবে অসাস্থ্যকর খাবার মূলত দায়ী।

 সারাদিন রোজা রেখে মুসল্লিরা বেশিরভাগ সময় অস্বাস্থ্যকর ভাজাপোড়া খাওয়াই অভ্যস্ত। যদিও মুখে স্বাদ আনে কিন্তু এগুলো রয়েছে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি।

আসুন জেনে নেই রোজার সময় কিভাবে খাদ্য গ্রহণ করলে নিজেকে সুস্থ রাখা সম্ভব।







পর্যাপ্ত পানি পান
রমজানে সবচেয়ে বেশি দেখা যায় পানি শূন্যতা। কারণ আমরা সেহরি এবং ইফতারের পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করি না।

সারাদিন পানি না খাওয়ার ফলে শরীরে একটি পানি শূন্যতা তৈরি হয়। এটি এড়াতে সেহরি এবং ইফতারের প্রচুর পরিমাণ পানি খেতে হবে।

মনে রাখতে হবে পানির বিকল্প নেই।



স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহন
সেহরি এবং ইফতারের স্বাস্থ্যকর খাবার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। সাধারণত আমরা বেগুনি আলুর চপ ডিমের চপ ইত্যাদি ভাজাপোড়া জাতীয় খাবার খেয়ে থাকি ইফতারে।

এগুলোর পরিবর্তে দই চিড়া কলা সবজি ফলমূল ইত্যাদি খাবার বেশি বেশি খেতে হবে। অস্বাস্থ্যকর ভাজাপোড়া খাওয়ার ফলে আমাদের পরিপাকতন্ত্রের অনেক ক্ষতি সাধন হয়।

তাই রমজানে ইফতার এবং সেহেরী হওয়া উচিত স্বাস্থ্যকর। না হলে আমাদের অজান্তেই শরীরে  বাসা বাঁধতে পারে পরিপাকতন্ত্র জনিত রোগ ব্যাধি।



সঠিক সময় খাবার গ্রহন
সারাদিন রোজা রাখার পরে বেশিরভাগ মানুষ ইফতারের অনেক বেশি পরিমাণ খেয়ে ফেলে। ফলশ্রুতিতে শরীরে খাদ্য গ্রহণের প্রবণতা কমে যায় এবং বেশিরভাগ মানুষ রাতের খাবার গ্রহণ করে না।

বরং একবারে সেহের ী করে থাকে। এটি অত্যন্ত খারাপ অভ্যাস যা শরীরের জন্য খুবই ক্ষতিকর।

রাতের খাবার হিসাবে কিছু না কিছু অবশ্যই খেতে হবে সুস্থ থাকতে হলে।



পর্যাপ্ত ঘুম
রমজানে যুবক বয়সেই ছেলেমেয়েরা বেশিরভাগ রাতে না ঘুমিয়ে একবারে সেহরি করে ঘুমাতে চায়। এটি অত্যন্ত ক্ষতি করে একটি অভ্যাস।

রমজানে সব থেকে ভালো প্র্যাকটিস হলো রাতের খাবার গ্রহণ করে ১১ টার ভিতরে শুয়ে পড়া এবং ভোরবেলা উঠে সেহরি খাওয়া।

এতে আমাদের শরীর যেমন বিশ্রাম পায় তেমন পায় সারাদিনে রোজা রাখার শক্তি। সারারাত না ঘুমিয়ে একবারে সেহরি করলে শরীরের এনার্জি কমে যায়।

ফলে আস্তে আস্তে কমতে থাকে ইমিউনো শক্তি।



পরিমিত খাওয়া
সারাদিন রোজা রেখে বেশিরভাগ মানুষ ইফতারে একবারে অনেক বেশি খেয়ে ফেলে। সুস্থ থাকতে হলে ইফতারের অবশ্যই পরিমিত পরিমাণে খাবার গ্রহণ করতে হবে।

এক্ষেত্রে খেয়াল রাখতে হবে অবশ্যই খাবার চিবিয়ে খেতে হবে ভালোমতো। ধীরে ধীরে চিবিয়ে ফেলে খাবার যেমন ভালোভাবে হজম হয় তেমনি একবারে বেশি খাওয়া হয় না।

তাই পরিমিত খাবার গ্রহণ করতে চাইলে আস্তে আস্তে ভালোমতো চিবিয়ে খেতে হবে।



শরীর ঠান্ডা রাখতে সরবত
প্রচন্ড গরমে রোজা রাখলে শরীরে পানির চাহিদা বৃদ্ধি পায় এবং শরীরে হজমের ভারসাম্যতা নষ্ট হয়। এক্ষেত্রে ইসবগুল তোকমা দানা বেলের শরবত বা লেবুর শরবত অত্যন্ত উপদেয়।

এগুলো একদিকে শরীরে পানির ভারসাম্যতা রক্ষা করে অন্যদিকে শরীরকে ঠান্ডা করে।

এগুলোর আরো বেশি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো শরীরকে চাঙ্গা করে তোলা।

সারাদিন রোজা রাখার পরে এক গ্লাস ঠান্ডা শরবত দিতে পারে অনাবিল প্রশান্তি এবং বিভিন্ন শারীরিক উপকারিতা।







রোদ থেকে সুরক্ষা

রোজার সময় যেহেতু আমরা পানি বা পানি জাতীয় খাবার গ্রহণ করতে পারি না সারাদিন। তাই যারা পরিশ্রমের কাজ করেন তাদের উচিত যতটা সম্ভব রোদ থেকে নিজেকে দূরে রাখা।

বাইরে গেলে অবশ্যই ছাতা নিয়ে যাওয়া।







মৌসুমি ফল
গরমের সময় ইফতারিতে যতটা সম্ভব মৌসুমী ফল রাখার চেষ্টা করা উচিত। বিশেষ করে গরমের সময় বেল তরমুজ বাঙ্গি ইত্যাদি মৌসুমী ফলের যোগান থাকে বাজারে।

মৌসুমী ফলগুলো একদিকে যেমন পুষ্টি চাহিদা পূরণ করে অন্যদিকে শরীর কে ঠান্ডা রাখে।

তাই এ সময় যতটা সম্ভব মৌসুমী ফল খাওয়া উচিত।













Source: amarbanglahub.com/

6





হাড় ভাঙার ক্ষেত্রে ভাঙা স্থানকে অনড় রাখা অত্যন্ত দরকারি একটি বিষয়। স্থিতিশীলতা দ্রুত নিরাময়ে সাহায্য করে। হাড় ভাঙার চিকিৎসায় এ কৌশলটি হাজার বছরের পুরনো। হিপোক্রেটিস কিংবা আল রাজির ন্যায় চিকিৎসকদের সময়েও এ পদ্ধতির ব্যবহার শোনা যায়। তবে ভাঙা স্থান অনড় রাখার বস্তু-সামগ্রীতে ছিল ভিন্নতা। মোম, রেজিন, ডিমের সাদা অংশ, স্টার্চ, বাঁশ কিংবা কাঠের টুকরা হয়ে বর্তমানের প্লাস্টার কাস্ট (cast) ও ফাইবারগ্লাস কাস্ট- অস্থি কিংবা অস্থিসন্ধি নিশ্চল করার ক্ষেত্রে ইতিহাসে এমন সব পদার্থের ব্যবহারই সবচেয়ে বেশি শোনা যায়।





বর্তমানে ভাঙা স্থান অনড় করার কাজে বহুল ব্যবহৃত একটি পদার্থ হলো প্লাস্টার অব প্যারিস। খনিজ জিপসাম (CaSO4.2H2O) থেকে প্লাস্টার অব প্যারিস তৈরি করা হয়। হাড় ভাঙার চিকিৎসায় ব্যবহারের আগে বাসা-বাড়ি তৈরির কাজেই এটি সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হতো।

প্লাস্টার অব প্যারিসের নামকরণ নিয়ে নানা মত দেখা যায়। ১২৫৪ সালে রাজা তৃতীয় হেনরির প্যারিস ভ্রমণের সময় এখানকার দালান-কোঠার নান্দনিক সাদা দেয়াল মুগ্ধ করে তাকে। তখন থেকে ইংল্যান্ডেও একই রকম প্লাস্টার পদ্ধতি চালু হয়, যা প্লাস্টার অব প্যারিস নামেই পরিচিতি পায়।



শুরুর গল্প

উনিশ শতকের শুরুতে ইউরোপে হাড় ভাঙার চিকিৎসায় প্লাস্টার অব প্যারিস ব্যবহারের একটি পদ্ধতি বেশ জনপ্রিয় হয়। এ পদ্ধতিকে বলা হতো ‘plâtre coulé’। ভাঙা স্থানকে ঘিরে একটি কাঠের কাঠামোর মধ্যে ঢেলে দেওয়া হতো প্লাস্টার অব প্যারিস। প্লাস্টারের ভারে রোগী বিছানা ছেড়ে উঠতে পারত না। তবুও পা ভাঙার চিকিৎসায় এটি বেশ জনপ্রিয় একটি পদ্ধতি ছিল। বেলজিয়ান চিকিৎসক লুইস সিউটিন রোগীদের অসুবিধার কথা ভেবে স্টার্চ ব্যান্ডেজের প্রচলন করেন। ১৮৩৯ সালে লাফার্গ স্টার্চ দ্রবণের সাথে প্লাস্টার অব প্যারিস পাউডার মিশিয়ে তা লিনেন ব্যান্ডেজের উপর প্রয়োগ করেন। এ পদ্ধতিতে প্লাস্টার জোড়া লাগার সময় কমে ছয় ঘণ্টায় নেমে আসে।





 ১৮৫২ সালের দিকে ডাচ মিলিটারি সার্জন অ্যান্থোনিয়াস মাথিজসেন দ্রুত কয়েক মিনিটের মধ্যে প্লাস্টার জমাট বাধার একটি পদ্ধতি উদ্ভাবন করেন। পানি ও প্লাস্টার অব প্যারিসে ভেজা ব্যান্ডেজ ভাঙা স্থানকে কয়েক মিনিটেই মোটামুটি অনড় করতে সক্ষম হতো। তার এ পদ্ধতি অনেকটাই পূর্বে ব্যবহৃত সিউটিনের পদ্ধতির ন্যায়। তবে সিউটিনের পদ্ধতির চেয়ে এ প্রক্রিয়ায় কম সময় লাগার পাশাপাশি কম পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ন্যায় বেশ কিছু সুবিধা পাওয়া যায়। মাথিজসেনের মৃত্যুর পর প্লাস্টার করার এ প্রক্রিয়া বেশ জনপ্রিয়তা পায়।






প্লাস্টার অব প্যারিস যেভাবে কাজ করে

খনিজ জিপসামকে (CaSO4.2H2O) ১২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় উত্তপ্ত অবস্থায় পানি অপসারণ করে প্লাস্টার অব প্যারিস প্রস্তুত করা হয়। প্লাস্টার অব প্যারিসের রাসায়নিক নাম ক্যালসিয়াম সালফেট হেমিহাইড্রেট (CaSO4.1/2H2O), যা সাধারণত পাউডার আকারে আর্দ্রতামুক্ত পাত্রে সংরক্ষণ করা হয়। এ প্লাস্টার অব প্যারিসের সাথে যখন আবার পানি যোগ করা হয়, তখন তা ৫-১৫ মিনিটের মধ্যে জিপসামে পরিণত হয় ও শক্ত আকার ধারণ করে। আর ভাঙা স্থানে ব্যান্ডেজের উপরে শক্ত এ কাঠামো অস্থি ও অস্থিসন্ধিকে অনড় করে রাখে।

শুধু ভাঙা অস্থিই না, বরং এটি আঘাতপ্রাপ্ত লিগামেন্ট ও মাংসপেশীকেও নিরাময়ের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে দেয়। কয়েক মিনিটের মধ্যে প্লাস্টার অব প্যারিস জমাট বাধলেও এটি পুরোপুরি শুকাতে ৩৬-৭২ ঘণ্টা অবধি সময় লেগে যেতে পারে। পায়ের প্লাস্টার মোটামুটি ৪৮ ঘণ্টা পর থেকে এর ওজন নিতে পারে। প্লাস্টারের গুণগত মান, পানি ও জিপসামের অনুপাত প্রভৃতি বিষয়ের উপর প্লাস্টারের সফলতা নির্ভর করে। প্লাস্টার করা অবস্থায় এক্সরে করার সুবিধাও পাওয়া যায় । হাড় ভাঙার চিকিৎসায় এ পদ্ধতি বেশ স্বল্পমূল্যের, ও তেমন কোনো অ্যালার্জিক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই বললেই চলে।





হাড় ভাঙার চিকিৎসায় আক্রান্ত স্থান নিশ্চল করার ক্ষেত্রে বর্তমানে ফাইবারগ্লাস প্লাস্টার কাস্টের মতো আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়। তবে এতে প্লাস্টার অব প্যারিসের আবেদন খুব একটা কমেনি। হাড় ভাঙার চিকিৎসা সম্পর্কে ১৮৯৩ সালে এ জে স্টিলের করা নিম্নোক্ত উক্তি এখনও তাই সমানভাবে প্রাসঙ্গিক,

“The property of rapidly hardening when once wet, gives to plaster its value. Additionally it has merit in its cheapness and convenience; it is ever ready, is easily prepared, and simple in its application.”














Source: roar.media/bangla

7



'তুমি তো কিছুই বোঝো না', 'আরেহ বোকা', 'তোমাকে দিয়ে এসব জটিল কাজ হবে না', 'আরে ও তো শিল্পী মানুষ, এসব হিসাব বুঝবে নাকি!'– এমনই আরও অনেক কটূক্তি আমাদের আশেপাশে প্রায়ই ঘুরপাক খায়। শুনে একটু মন খারাপ হয় কিন্তু প্রতিবাদ করার মতো 'যথেষ্ট' কি না, বুঝে উঠতে না পেরে মুখ বুজে থাকা। মনোবিজ্ঞানের ভাষায় এসব কথাবার্তাই গ্যাসলাইটিং।

মানুষের নেতিবাচক আচরণ হিসেবে শব্দটির প্রচলন শুরু হয় একটি নাটকের মাধ্যমে। ১৯৩৮ সালে 'গ্যাস লাইট' নামে নাটকটি মঞ্চায়িত হয় এবং পরবর্তী সময়ে একই গল্প ও নাম অবলম্বনে ১৯৪০ সালে মুক্তি পায় একটি চলচ্চিত্র। অবশ্য জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পায় ১৯৪৪ সালের 'গ্যাস লাইট' সিনেমাটি থেকে, যাতে চার্লস বয়ার ও ইনগ্রিড বার্গ্যমান অভিনয় করেছিলেন। প্রতিটিতেই গল্পের মূল ছাঁচটা ছিল এক। একজন পুরুষ প্রোটাগনিস্ট তার স্ত্রীকে বোঝানোর চেষ্টা করছিলেন, তার সব ভাবনাই মিথ্যা, কল্পনামাত্র– এমনকি তাদের বাড়ির গ্যাস লাইটের জ্বলা-নেভাও। তিনি বাস্তবকে অবাস্তবরূপে তার স্ত্রীর সামনে উপস্থাপন করছিলেন। এমনকি স্ত্রী চরিত্রটিও এক পর্যায়ে সেসব কথা বিশ্বাস করে ফেলেন এবং নিজেকে পাগল ভাবতে শুরু করেন।





ঠিক এমনটাই ঘটে যখন কোনো ব্যক্তি গ্যাসলাইটিংয়ের শিকার হন। গ্যাসলাইটিং একপ্রকার মানসিক শোষণ। বলা যায়, মানসিক শোষণের বিভিন্ন কায়দার মধ্যে অন্যতম একটি হচ্ছে গ্যাসলাইটিং। অন্যসব শোষণের মতো এ প্রক্রিয়াতেও দুটো পক্ষ থাকে। শোষক বা গ্যাসলাইটার ও শোষিত বা ভিকটিম। গ্যাসলাইটার ব্যক্তিটির চেষ্টা থাকে ভিক্টিমের মনের মধ্যে নিজেকে নিয়ে সংশয়, আত্মবিশ্বাসের অভাব– এ ধরনের বিষয়গুলো পোক্ত করে দেওয়ার। মূলত অন্য ব্যক্তির ওপর এক ধরনের মানসিক নিয়ন্ত্রণ পাবার জন্য ও নিজেকে ক্ষমতাশীল পর্যায়ে রাখার জন্যই মানুষ এমন আচরণ করে থাকে।






কাউন্টারিং

এ ধরনের গ্যাসলাইটিংয়ে ব্যক্তি অন্যের স্মৃতি নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে ফেলে দেয়। যেকোনো কিছু বলার পর বা কোনো মতামত দেবার পর, 'তুমি নিশ্চিত তো?', 'তুমি তো সব ভুলে যাও' – এ ধরনের কথাবার্তা নিয়মিত বলার মাধ্যমে এই চর্চাটি করা হয়। এবং এর মধ্য দিয়ে ভিক্টিম নিজেও এক সময় বিশ্বাস করে ফেলেন যে তার কিছুই মনে থাকে না, তিনি আসলে বিষয়টি ভুলে গেছেন বা ভুল বলছেন। এ ধরনের গ্যাসলাইটিংয়ের বেশ চূড়ান্তরকম উদাহরণ দেখা যায় সত্যজিৎ রায়ের 'বিপিন চৌধুরীর স্মৃতিভ্রম' গল্পটিতে।





উইথহোল্ডিং

কথোপকথনে গ্যাসলাইটিংয়ের আরেকটি পদ্ধতি হচ্ছে 'উইথহোল্ডিং'। এর মাধ্যমে ব্যক্তি নিজেকে ইচ্ছে করে নিষ্ক্রিয় রাখার চেষ্টা করেন, যাতে অপর ব্যক্তিটি নিজের কথা নিয়ে অতি সচেতন হয়ে পড়েন। কিংবা তার মনে হয়, তিনি কিছুই গুছিয়ে বা বুঝিয়ে বলতে পারছেন না। এতে করে একটি বিব্রতকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। নতুন আসা শিক্ষকদের সঙ্গে এমনটা অনেক অমনোযোগী শিক্ষার্থীই করে থাকে।





তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা

'ট্রিভিয়ালাইজিং' বা তুচ্ছকরণ হচ্ছে অত্যন্ত স্থূল কিন্তু বহুল প্রচলিত গ্যাসলাইটিংয়ের নমুনা। অপর ব্যক্তিটিকে সারাক্ষণ হেয় করা, তাদের অনুভূতিগুলোর যথাযথ মূল্য নেই– এমনটা মনে করানোর চেষ্টা হয় এ প্রক্রিয়ায়। বন্ধুদের দল বা কর্মক্ষেত্র, এমনকি পরিবার থেকে শুরু সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রেই নরম স্বভাবের মানুষদের সঙ্গে এমনটা করার চর্চা রয়েছে। বিষয়টিকে 'হাস্যকর' ধরে নিয়ে হাসাহাসি করার মাধ্যমে যে কারও মানসিক স্বাস্থ্যের কতটা ক্ষতি হচ্ছে, তারা কীভাবে অনেক বেশি সংশয়গ্রস্ত ও অনেক কম আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠছেন– সেদিকে কম লোকই খেয়াল করেন। তাই হয়তো ছোটবেলায় খেলার সাথীদের ডাকা 'দুধভাত' তকমাটি অনেকেই আজীবন গায়ে নিয়ে ঘোরেন।







ডিনায়াল বা অস্বীকৃতি

খুব সহজ ভাষায় বললে, মিথ্যা বলা। মিথ্যা বলা গ্যাসলাইটিংয়ের প্রধান হাতিয়ার। অতীতে কোনো কিছু করে বা বলে পরবর্তীতে সুযোগ বুঝে সেটি একেবারেই এড়িয়ে যাওয়া, অস্বীকার করা ইত্যাদি 'ডিনায়াল'-এর অংশ। নিজে মিথ্যা বলে অপর ব্যক্তিকে মিথ্যা প্রমাণের চেষ্টা চলে এতে।




স্টেরিওটাইপিং বা ছাঁচিকরণ

ব্যক্তির জেন্ডার, পেশা, এলাকা ইত্যাদি নিয়ে একটা আরোপিত ধারণার চর্চাই স্টেরিওটাইপিংয়ের মূলে। যেমন ধরা যাক, 'নোয়াখালির মানুষ তো, তাই খাবার পরই চলে যাচ্ছে' বা 'মেয়ে মানুষের বুদ্ধি!' – এ ধরনের খোঁচা মারা কথাবার্তার মাধ্যমে মানুষকে প্রতিনিয়ত গ্যাসলাইট করা হয়। এতে করে ভিক্টিম যদি আবার প্রতিবাদ করে, তখন সে 'মজা বোঝে না' বলে আবার তুচ্ছ করার প্রবণতাও দেখা যায়।




চলতি জীবনে আমরা বিভিন্ন ধরনের যোগাযোগে সংযুক্ত হই। বিভিন্ন ধরনের মানুষের সঙ্গে চলাফেরা করি। এর মধ্যে সংবেদনশীল-অসংবেদনশীল, দুই পক্ষের সঙ্গেই আমাদের পরিচয় ঘটে থাকে। চোখ বুজে বোধ হয় কেউই বলতে পারবেন না কখনো গ্যাসলাইটিংয়ের শিকার হননি বা মনের ভুলেও অন্যের সঙ্গে এমন আচরণ করেননি। তবে সচেতনতার কোনো সময় হয় না, যেকোনো সময়ই এসব বিষয়ে একটু সচেতন, একটু সংবেদনশীল হওয়া যায়। গ্যাসলাইটিংয়ে শিকার হলে সরাসরি প্রতিবাদ করা এবং অন্যের সঙ্গে গ্যাসলাইটিং না করার চর্চা হোক। সবার মানসিক সুস্থতা বজায় থাকুক।












তথ্যসূত্র: ফোর্বস, হোমওয়ার্ক, নিউপোর্ট ইনিস্টিটিউট


8



হবু মায়ের খাবার নির্বাচনের সময় সতর্ক থাকতে হবে, যাতে প্রয়োজনীয় সব রকম উপাদানই খাবারে থাকে। আঁশজাতীয় খাবার যেমন- লাল আটার রুটি, শাকসবজি ইত্যাদি খেতে হবে। এই খাবারগুলো গর্ভকালীন কোষ্ঠকাঠিন্য দূরীকরণে সাহায্য করে।

সুস্থ শরীর ও প্রতিদিনের কর্মকাণ্ডে শক্তি প্রদানকারী খাবারগুলোর মধ্যে আছে আটা, গম, পাস্তা, নুডলস, ওটস, আলু ইত্যাদি।

ফলমূল ও শাকসবজি থেকে পাওয়া যায় বিভিন্ন রকম ভিটামিন ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট।





প্রোটিনের উৎকৃষ্ট উৎস মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, বাদাম, শিম, সয়া, দই, পনির ইত্যাদি। প্রতিদিন এক গ্লাস দুধ ক্যালসিয়ামের ঘাটতি পূরণ করতে সাহায্য করবে। প্রতিদিন অন্তত ১টা ডিম এবং ২ বার দুধ খেতে পারলে খুবই ভালো।

আয়রন পাওয়া যায় এমন খাবারগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো সবুজ শাক, লাল মাংস, বাদাম, কচুজাতীয় সবজি, কাঁচাকলা ইত্যাদি। এসময় দিনে ৮ থেকে ১০ গ্লাস পানি অবশ্যই পান করতে হবে।









কোন খাবার খাবেন না?

কিছু খাবার আছে যা গর্ভবতী মা ও বাচ্চার জন্য ক্ষতিকর। যেমনঃ কাঁচা দুধ, আধা সিদ্ধ মাংস, অপরিষ্কার শাকসবজি। এসব খাবার গর্ভপাতের ঝুঁকি বাড়ায়।



কামরাঙ্গা, আনারস বা কাঁচা পেঁপেতে কিছু এনজাইম থাকে যা ভ্রূণের ক্ষতি করতে পারে।

অতিরিক্ত লবণাক্ত খাবার পরিহার করতে হবে। কারণ এর ফলে উচ্চ রক্তচাপের পাশাপাশি পায়ে পানি আসা বা শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ ফুলে যেতে পারে। এছাড়া অতিরিক্ত চা-কফি ও ঠান্ডা পানীয় বাচ্চার জন্য ক্ষতিকর।















Source: womenscorner.com/

9
Natural Medicine / মেথির উপকারিতা
« on: February 13, 2023, 11:52:16 AM »










মেথি (methi) কি ?


মেথি বা Fenugreek যার বৈজ্ঞানিক নাম Trigonella foenum-graecum। একটি মৌসুমী গাছ যার পাতা এবং বীজ (বাদামি-হলুদ বর্ণের চারকোণা আকৃতির) উভয়ই অত্যন্ত সুন্দর উপায়ে ব্যবহৃত হয়।



মেথির ব্যবহার


মেথি যেসকল রূপে ব্যবহৃত হয়-

১. মেথিপাতার মুখরা
গ্রাম বাংলার অতি পরিচিত এবং জনপ্রিয় একটি শাক হলো মেথি শাক। মেথি গাছের পাতাই মেথি শাক হিসেবে খাওয়া যায় যা অত্যন্ত উপকারী।

লোকজ, ইউনানী ও কবিরাজি চিকিৎসায় এই মেথি পাতা বা মেথি শাক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

২. মশলা হিসেবে মেথি
ডাল রান্নার সময় পাঁচফোড়নের ব্যবহার না করলে সে রান্নার স্বাদ যেনো অপূর্ণই থেকে যায়। আর এই পাঁচফোড়নেরই একটি উপাদান হলো মেথি।

সুস্বাদু রান্নার কথা মাথায় আসলে মেথিকে পাশে সরিয়ে রাখা অসম্ভব। অত্যাধিক পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ এই মেথি বীজ আমাদের প্রতিদিনের ব্যবহৃত মশলা জাতীয় পণ্যের মধ্যে থাকা যেনো আবশ্যক।

৩. খাদ্য রসনায় মেথি
শুধু কি মশলা কিংবা পাঁচফোড়নেই শেষ? মোটেই নয়। মেথি বীজ আমরা সরাসরি খাদ্য হিসেবেও নিয়মিত ব্যবহার করতে পারি।

মেথি পরোটা, মেথি ভাজি, মেথি পনির, মেথির থেপলা, আলু মেথি প্রভৃতি খাদ্য অনেকেরই প্রিয়। রুটি, পরোটা, ইডলি, দোসা, প্রভৃতি খাবারে মেথি পাতা ব্যবহার করলে তা স্বাদ এবং পুষ্টিমান উভয় ক্ষেত্রেই কার্যকরী।

রাতে ভেজানো মেথি সকালে চিবিয়ে খেলে এবং মেথি ভেজানো পানি পান করার মাধ্যমে বিভিন্ন রোগ থেকে শরীরকে সুরক্ষিত করা সম্ভব।
তবে এক্ষেত্রে খাওয়ার নিয়ম যথাযথভাবে মেনে চলা গুরুত্বপূর্ণ যা পরবর্তীতে আলোচিত রয়েছে।

৪. পথ্যের গুণাগুণ মেথিতে
পথ্য হিসেবে মেথির গুণাগুণ অপরিসীম। বেশ কিছু রোগের মুশকিল আসান কিন্তু এই মেথি।

কোন কোন রোগের মহৌষধ এই মেথি তা জানার পূর্বে এটা জেনে নেয়া প্রয়োজন যে মেথি কেনো শরীরের জন্য এত গুরুত্বপূর্ণ।















মেথির উপকারিতা




১. ক্যান্সার প্রতিরোধে মেথির অবদান
বর্তমান যুগে চারদিকে দূষণ, ভেজালসমৃদ্ধ খাদ্য এবং বিভিন্ন বদভ্যাসের কারণে ক্যান্সার নামক ভয়ংকর ব্যধি আমাদের তাড়া করে বেড়াচ্ছে চরমভাবে।

একজন ব্যক্তি ক্যান্সারে আক্রান্ত হলে সে ব্যক্তি এবং তার পরিবারের উপর দিয়ে কী ভয়াবহ পরিস্থিতি চলে সেটা শুধু তারাই জানে। তাই প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধের পন্থাটাই বেশি উপযোগী। আর এই কাজে আপনার সাহায্য হতে পারে মেথি।

দেহের ভেতরের বিভিন্ন আণবিক পথগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করে মেথি। বিভিন্ন সেলুলার পথগুলো যেমন জ্যাক-স্ট্যাট সিগন্যালিং, এমএপকে সিগন্যালিং প্রভৃতি পথগুলোকে ক্যান্সারের আণবিক প্রান্তগুলো বৃদ্ধি কিংবা ধ্বংস করে।আর এই পথগুলোর সঠিক নিয়ন্ত্রণ করে থাকে মেথি।

বিশেষত কোলন ক্যান্সার এবং স্তন ক্যান্সারের ক্ষেত্রে মেথি অত্যন্ত উপযোগী। স্বাস্থ্যবান ব্যক্তিদের জন্য মেথি ক্যান্সার প্রতিরোধী হতে পারে যদিও তাদের জিন ALK পরিবর্তনের কারণে জিনগত ক্যান্সারের ঝুঁকি রয়েছে।

কিন্তু জিন PLHH পরিবর্তনের কারণে জিনগত ক্যান্সারের ঝুঁকি থাকলে মেথি এড়িয়ে চলা আবশ্যক।

এক্ষেত্রে ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণের মাধ্যমে আপনি সঠিক নির্দেশনা পেতে পারেন। মেথিতে উপস্থিত ট্রাইগ্লিসারাইড এস্ট্রোজেন গ্রহণকারী মডিউলেটর হিসেবে কাজ করে। ফলে ক্যান্সার কোষ ধ্বংস করতে ভূমিকা রাখে।
তবে ক্যান্সারের সব ক্ষেত্রে মেথির ব্যবহার কাম্য নয়। এপিরিউবসিন চিকিৎসায় প্রাথমিক সেন্ট্রাল নার্ভাস সিস্টেম লিম্ফোমা ক্যান্সার যাদের তাদের জন্য মেথি অত্যন্ত উপকারী।

কিন্তু পাইনাব্লাস্টোমার কারণে কার্বোপ্ল্যাটিনের চিকিৎসা যদি করা হয় তবে মেথি ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়।

মূলত ক্যান্সারের প্রকৃতি, চলমান চিকিৎসা, বয়স, লিঙ্গ, ক্যান্সারের অবস্থা সবকিছু মিলিয়ে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে মেথি গ্রহণযোগ্য কি না।

২. হজমে সাহায্যকারী মেথি
মেথি খাবার হজম করতে সাহায্য করে। এর অভ্যন্তরীণ পুষ্টিগুণ খাদ্যের বিষাক্ত পদার্থকে শরীরের উপর প্রভাব পড়া থেকে বিরত রাখে।

ফলে এটি একইসাথে খাবার হজম এবং দ্রুত শোষণে সহায়তা করে। মেথি গ্রহণে তাই শারীরিক অস্থিরতা জনিত সমস্যাও দূরীভূত হয়।

৩. কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে মেথি
আমরা সকলেই জানি যে ফাইবার বা আঁশ জাতীয় খাদ্য গ্রহণে কোষ্ঠকাঠিন্য দূরীভূত হয়।

মেথিতে ফাইবার থাকায় এটি হজমে সহায়তা করে যার ফলস্বরূপ কোষ্ঠকাঠিন্য এবং পাইলস জাতীয় পীড়াদায়ক রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

৪. ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে মেথি
“আয়ু” নামক একটি জার্নালে ২০১৭ সালে মেথি এবং ডায়বেটিস নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক একটি পরীক্ষামূলক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সেখানে দেখানো হয় যে ৫ মাস ধরে ৬০ জন ব্যক্তিকে দুটো গ্রুপে ভাগ করে তার অর্ধেককে দেয়া হয় শুধু ডায়াবেটিস এর ঔষধ এবং বাকি অর্ধেককে ওষুধ এর পাশাপাশি মেথি বীজ খাওয়ানো হয়।

৫ মাস পর এর ফলাফলে দেখা যায় মেথি সেবনকারী ব্যক্তিদের ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা গিয়েছে।









কিন্তু এ পরিবর্তন কীভাবে সম্ভব তার আগে জেনে নেয়া প্রয়োজন যে মেথি ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে কীরূপ ভূমিকা রাখে।

⇒ মেথিতে অ্যামিনো এসিডের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য।  এই অ্যামিনো এসিড রক্তে উপস্থিত গ্লুকোজ বা চিনিকে রাসায়নিকভাবে ভাঙতে সাহায্য করে এবং তা শোষিত হতে সহায়তা করে। এতে টাইপ ২ ডায়বেটিসের ঝুঁকি কমে। 

⇒ মেথির অ্যামিনো এসিড ৪- হাইড্রোক্সি আইসোলিউসিন অগ্ন্যাশয় থেকে নিঃসরিত  ইনসুলিনের উৎপাদন মাত্রা বাড়িয়ে দেয় এবং একইসাথে প্রস্রাবে গ্লুকোজের পরিমাণ কমায়।

⇒ এছাড়াও মেথির খাবার হজম এবং শোষণের গুণ থাকায় ডায়াবেটিস সহজেই নিয়ন্ত্রিত থাকে।
৫. ওজন কিংবা স্থুলতা হ্রাসে মেথি
নিয়মিত মেথি খেলে শরীরের ওজন হ্রাস করা সম্ভব। খালি পেটে মেথি খেলে তা শরীরের মেদ ঝরাতে সাহায্য করে। মেথি গ্রহণ করার ফলে পরিমাণমত খাদ্য গ্রহণে পরিতৃপ্তি অনুভূত হয়।

ফলে অতিরিক্ত খাদ্য গ্রহণের ইচ্ছে থাকে না। এতে দেহে বাড়তি খাবারের মেদ জমতে পারে না এবং ওজন হ্রাস পায়।

৬. কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে
আমরা জানি কোলস্টেরল তিন ধরণের হয়ে থাকে

১. উচ্চ ঘনত্বের লিপোপ্রোটিন(এইচডিএল)

২. নিম্ন ঘনত্বের লিপোপ্রোটিন(এলডিএল)

৩. ট্রাইগ্লিসারাইড

রক্তে কোলেস্টেরল এর মাত্রা অত্যাধিক হলে শরীরের উপর ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে। তাই এই তিন প্রকার কোলেস্টেরল এর মাত্রা স্বাভাবিক রাখা প্রয়োজন এবং এক্ষেত্রে মেথি অত্যন্ত কার্যকরী।



⇒ এলডিএল কোলেস্টেরল আমাদের শরীরের জন্য উপকারী মনে করা হয়। মেথি লিভারে এলডিএল রিসেপ্টর গুলো বাড়িয়ে দেয়, ফলে এলডিএল শোষণের মাত্রা বেড়ে যায় তবে নিয়ন্ত্রিভাবে।

⇒ তবে অন্যান্য কোলেস্টেরল এবং ট্রাইগ্লিসারাইড কমাতে মেথি সাহায্য করে। মেথির বীজে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ থাকে।

⇒ এতে থাকা অ্যান্টি অক্সিডেন্ট এন্টিবায়োটিক হিসেবে কাজ করে। ফলে খারাপ কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে। একটি পরীক্ষায় প্রমাণিত যে মেথি ১০-১৬ শতাংশ পর্যন্ত কোলেস্টেরল কমায়।

⇒ অর্থাৎ ভালো কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়ানো এবং খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমানোর মাধ্যমে মেথি কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ করে দেহকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।

⇒ এছাড়াও মেথিতে যে ফাইবার আছে তা শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যাকটেরিয়ার জন্ম দেয়। এসকল ব্যাকটেরিয়া কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে।
৭. হৃদরোগের ঝুঁকি কমিয়ে দীর্ঘজীবনের আশা সঞ্চার করে
আমরা জানি মেথি খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে। হৃদরোগের অন্যতম কারণ হিসেবে কোলেস্টেরলকে দায়ী করা হয়। ফলে হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে মেথির গুরুত্ব অপরিসীম।

এছাড়াও মেথিতে গ্যালাক্টোমানান এবং পটাশিয়াম রয়েছে যা রক্ত সঞ্চালনে সহযোগিতা করে। মেথিতে ভিটামিন এবং মিনারেল বেশি থাকায় তা হৃৎপিণ্ড সুস্থ রাখতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।


৮. বাতের ব্যথা কমাতে সাহায্য করে
মেথিতে উল্লেখ্যযোগ্য পরিমাণে লিনোলেনিক এবং লিনোলিক এসিড থাকে যা দেহের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। আর্থ্রাইটিস রোগের ক্ষেত্রেও এটি একটি উল্লেখযোগ্য সমাধান।

গবেষকরা ইস্ট্রোজেন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপির ক্ষেত্রেও মেথির ব্যবহার উল্লেখযোগ্য বলে মনে করেন।

এভাবে বাতের যন্ত্রণাদায়ক ব্যথা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।


৯. শরীরের ফোলা ভাব নিয়ন্ত্রণে
বিভিন্ন কারণে অনেক সময় আমাদের শরীর ফুলে যায় কিংবা মাংশপেশিতে ব্যথা হয়৷

সেসকল ক্ষেত্রে মেথি দানা অর্থাৎ মেথি বীজ কাপড়ে বেঁধে প্রদাহের স্থানে স্পর্শ করিয়ে রাখলে অত্যন্ত উপকারী হয়।

১০. মাসিকের ব্যথা থেকে মুক্তির উপায়
ঋতুস্রাবের সময়গুলোতে একটা মেয়ে কী পরিমাণ মানসিক এবং শারীরিক কষ্টের মধ্যে দিয়ে যায় তা শুধু সে-ই জানে। তবে এই অসহনীয় ব্যথা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব খুব সাধারণ একটি উপাদান থেকে। আর তা হলো মেথি।


ইউটেরাস বা জরায়ুতে মৃত কোষগুলো যখন বাড়তে শুরু করে তখনই এই নিদারুণ ব্যথার সৃষ্টি হয়। পিরিয়ডের সময়ে মেথি খেলে এই ব্যথা দূরীভূত হয় এবং আরাম অনুভূত হয়।

১১. মাতৃদুগ্ধ বাড়াতে সাহায্য করে মেথি
একটি শিশুর বিকাশ সম্পূর্ণ হয় যখন সে পরিপূর্ণভাবে তার মায়ের দুধ পায়। কিন্তু আজকাল বিভিন্ন সমস্যার কারণে অনেক মা যথেষ্ট পরিমাণ দুগ্ধ উৎপাদনে সক্ষম নন। সেই মায়েদের জন্য একটি উৎকৃষ্ট পথ্য হলো মেথি।

বেশ কিছু প্রতিবেদনে দেখা গেছে যে মায়েরা খাদ্য হিসেবে কিংবা পরিপূরক হিসেবে মেথি গ্রহণ করে তারা তাদের সন্তাদের জন্য পরিপূর্ণ দুগ্ধ উৎপাদনে সক্ষম।

তবে এর কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া তৈরি হতে পারে। তাই ডাক্তারের পরামর্শ নেয়া আবশ্যক।


১২. টেস্টোস্টেরন লেভেল বৃদ্ধি করে
পুরুষের যৌন ক্ষমতা বৃদ্ধিতে টেস্টোস্টেরন হরমোন নিঃসরণ প্রয়োজন। নিয়মিত মেথি খাওয়ার ফলে মস্তিষ্ক থেকে এই টেস্টোস্টেরন হরমোনের নিঃসরণ বেড়ে যায়।

১৩. রোগ প্রতিকারক মেথি
বেরিবেরি, যক্ষ্মা, হাঁচি-কাশি, মুখে ঘা, ব্রংকাইটিস, যেকোনো ধরণের ইনফেকশন, জ্বর, হার্নিয়া, পারকিনসন ডিজিজ, টাক পড়া প্রভৃতি রোগের সহজ সমাধান হলো মেথি।

এসকল রোগের ক্ষেত্রে একমাত্র ঔষধ মেথি নয়। কিন্তু অন্যান্য ওষুধের কার্যকারিতা আরও অনেক বেশি বাড়িয়ে দেয় মেথি।


১৪. এসিডিটি থেকে মুক্তিদান
গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটি এই বিষয়টার সাথে কম বেশি আমরা সবাই পরিচিত। একটু ঝাল মশলাযুক্ত খাবার খেলেই যেনো বিপদ। আর এই বিপদের সহজ সমাধান হতে পারে।

মেথির পুষ্টিগুণের কারণে খাবার হজম প্রক্রিয়া খুব সহজেই সমাধান হয়। খাদ্য অন্ত্রে শোষিত হয়। ফলস্বরূপ এসিডিটির জ্বালাপোড়া ভাবটা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

১৫. ওভারি বা ডিম্বাশয়ের সিস্ট এর আকৃতি হ্রাস করে
মেথির এই উপকারিতাটি নিয়ে অনেকের মনেই সংশয় রয়েছে।

এ ব্যাপারে আরও গবেষণা চলছে তবে বর্তমানে গবেষকগণ এই সিদ্ধান্তটুকু পর্যন্ত উপনীত হতে পেরেছেন যে ডিম্বাশয়ের সিস্ট চিকিৎসায় অনেকাংশেই কার্যকরী এই মেথি।

সিস্ট হলো এক প্রকার টিউমার কোষের প্রথম পর্যায় যা ক্রমাগত ক্যান্সারে রূপ নেয়।

একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে মেথি সিস্টের আকার ক্রমাগত কমিয়ে আনে এবং ঋতুস্রাব প্রক্রিয়া সঠিক ভাবে চলতে সাহায্য করে।

১৬. আমাশয় প্রতিরোধী
আমাশয় জ্বর ঠান্ডা কাশির মতই একটি সাধারণ রোগ। অনেক সময়ই এটা নিয়ে যথেষ্ট ভোগান্তি হয় আমাদের। তাই মেথির ব্যবহারের মাধ্যমে এই বিব্রতকর এবং কষ্টদায়ক পরিস্থিতি থেকে আমরা মুক্তি পেতে পারি।



মেথি গুঁড়ো ঘোলের সাথে মিশিয়ে খেলে এক্ষেত্রে উপকার পাওয়া যায়। আবার দইয়ের সাথে মেথি মিশিয়ে খেলে রক্ত আমাশয়ের প্রতিকার হয়।

১৭. সন্তান জন্মদান সহজকরণ
সন্তান জন্মদানের সময় গর্ভবতী মায়ের জরায়ুর সংকোচন-প্রসারণ সহজ করার মাধ্যমে সন্তান জন্মদান সহজতর করে৷ তবে অতিরিক্ত গ্রহণে গর্ভপাত বা অপরিণত শিশুর জন্মদানের মত সমস্যা হতে পারে।

তাই এক্ষেত্রে প্রথমেই চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া আবশ্যক।

মেথিতে উপস্থিত  সাইটো ইস্ট্রোজেন প্রোলাকটিন নামক এক প্রকারের হরমোনের মাত্রার বৃদ্ধি ঘটায়।


১৮. কৃমি রোধ
প্রতিদিন সকালে খালি পেটে মেথি চিবিয়ে খেলে বা মেথি সারারাত ভিজিয়ে রেখে সেই পানি খেলে দেহের ভেতরের বিভিন্ন রোগজীবাণু এবং কৃমি ধ্বংস হয়ে যায়।

এতক্ষণ আমরা বিভিন্ন রোগ কিংবা শরীরের অভ্যন্তরীণ অংশে মেথির উপকারিতা সম্পর্কে জানলাম।











চুলের যত্নে মেথি



⇒ চুল পড়া রোধ
চুল পড়া সমস্যার সহজ উপায় হিসেবে মেথির নাম অবশ্যই উল্লেখ করতে হবে। মেথিতে বিদ্যমান ভিটামিন এ এবং ভিটামিন সি চুলের থাকা লেসিথিন নামক পদার্থকে রক্ষা করে চুল পড়া সমস্যার সমাধান করে দেয়।






⇒ চুলের বৃদ্ধি
মেথি নিয়মিত মাথায় ব্যবহার মাধ্যমে চুল পড়া সমস্যার প্রতিকার হয়।

আয়রন, প্রোটিন,পটাশিয়াম ও ভিটামিনসহ আরও পুষ্টিকর উপাদান থাকায় মেথির হেয়ার প্যাক ব্যবহারে একদিকে যেমন চুলের বৃদ্ধি হবে অন্যদিকে চুল পড়া রোধ হয় দারুণভাবে।

খুশকি সমস্যারটি আমাদের জন্য অত্যন্ত বিব্রতকর এবং চুলের জন্য হানিকারকও বটে। খুশকির জন্য চুল পড়া আরও ত্বরান্বিত হয়।


⇒ খুশকি প্রতিরোধ
মেথি পেস্ট গোড়া থেকে চুলকে শক্ত করে এই খুশকি প্রতিরোধে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে।










⇒ চুলের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি
রুক্ষ শুষ্ক চুল আমাদের কারই কাম্য নয়। আমাদের চুলের ঔজ্জ্বল্য বৃদ্ধির জন্য জেলাটিন নামক একটি পদার্থের প্রয়োজন হয়। মেথির ভেতরে প্রাকৃতিক ভাবে এই পদার্থ থাকে। ফলে চুলের চাকচিক্য বৃদ্ধি পায়।


⇒ চুলের অকালপক্বতা রোধ
অল্প বয়সেই চুল পেকে বিড়ম্বনার সম্মুখীন হচ্ছেন? বিড়ম্বনা থেকে বাঁচতে বিভিন্ন কালারিং এজেন্ট এর শরণাপন্ন হতে হচ্ছে?


কিন্তু রাসায়নিক বস্তু আমাদের চুলের জন্য যে ক্ষতিকর তা তো আমরা সবাই জানি। তাই উপায় হিসেবে কালার নয়, বেছে নিন মেথি। মেথি দানার গুঁড়োতে পাওয়া মেলানিন চুলের অকালপক্বতা রোধ করতে সহায়তা করবে।
















Source: bdbasics.com

10
Weight Loss / ব্যায়াম করার সঠিক সময়
« on: January 28, 2023, 02:12:35 PM »
আমরা জানি সু-স্বাস্থ্যের জন্য নিয়মিত ব্যায়াম করার কোনো বিকল্প নেই। তবে ব্যস্ততা আমাদের জীবনে এভাবে জড়িয়ে রয়েছে যে মাত্র একঘণ্টা সময় খুঁজে বের করাও কঠিন হয়ে পড়ে। সকালে অফিসের জন্য অনেকেই ব্যায়াম করার সুযোগ পাই না। অন্যদিকে গৃহিনীরাও ঘরের নানা কাজের চাপে ব্যায়াম করার কথাই হয়তো ভুলে যান। কিন্তু এমন হাজারো ব্যস্ততার মাঝেও যদি একটি ব্যায়ামের রুটিন করা থাকে তাহলে দেখবেন সহজেই প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় ব্যায়ামটুকু করতে পারছেন। ভোরবেলা কিংবা দুপুরবেলা, বিকাল কিংবা সন্ধ্যা যে সময়ই ব্যায়াম করুন না কেন সময়ভেদে ব্যায়ামের ধরনে আসবে কিছু পরিবর্তন..






অনেকে ঘুম থেকে উঠে বিছানায় বসেই ব্যায়াম শুরু করেন। তবে এসময় ভারী ব্যায়াম না করাই ভালো। কারণ এক্সারসাইজের জন্য শরীরে যথেষ্ট পরিমাণে এনার্জি থাকা প্রয়োজন। ঘুম থেকে ওঠার পর পর সে এনার্জি শরীরে থাকে না। ফলে হিতে বিপরীত হতে পারে।
সময়ের অভাব থাকলে ঘুম থেকে ওঠার আধ ঘণ্টা পর হালকা জগিং বা মর্নিং ওয়ার্ক করুন।
ঘুম থেকে ওঠার পর ফ্রেশ হয়ে নাস্তা করে কয়েক ঘণ্টা পর ব্যায়াম করুন।
মনে রাখবেন কখনোই খালি পেটে ব্যায়াম করা যাবে না।
ভোরবেলা ব্যায়াম করার পরিকল্পনা থাকলে আগের দিনের সব কাজ তাড়াতাড়ি শেষ করে সঠিক সময়ে ঘুমাতে যান। ৭ থেকে ৮ ঘন্টা ঘুমানোর পর নির্দিষ্ট সময় অপেক্ষা করে ব্যায়াম করা শুরু করতে পারেন। যদি কোন দিন ঘুমাতে যেতে দেরি হয়ে যায় তবে ঘুম থেকে উঠেই আগের নিয়মের নির্দিষ্ট সময়ে ব্যায়াম শুরু করবেন না। এতে আপনার শরীরের উপর অতিরিক্ত চাপ পড়তে পারে।
ঘুম থেকে ওঠার পর শরীরটাকে একটিভ হওয়ার জন্য অন্তত তিন ঘণ্টা সময় দিন। শরীরের এনার্জি লেভেল স্বাভাবিক অবস্থায় পৌছালে তবেই ব্যায়াম করা শুরু করবেন।







দিনের বেলা:

ব্যায়াম করার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত সময় হচ্ছে দুপুরের পর বিকেলে। মানে ঘুম থেকে ওঠার ৬ ঘণ্টা পর এবং ১২ ঘণ্টার মধ্যে।
যাদের ভারী এক্সারসাইজের পরিকল্পনা রয়েছে তারা দিনের বেলার যেকোনো একটি সময় বেছে নিন।
লাঞ্চ করার পর বসে না থেকে হালকা হাঁটুন।
দুপুরের খাবার গ্রহণের পর কমপক্ষে দুই ঘণ্টা পরে ব্যায়াম শুরু করতে পারেন। এর আগে কখনোই ব্যায়াম করবেন না। আপনার শরীরের অবস্থা অনুযায়ী সময় নির্ধারন করাটা ভালো।
প্রতিদিন যদি আপনার রুটিনে দুই ঘণ্টা ব্যায়াম করার সিডিউল বা ইচ্ছা থাকে তবে অবশ্যই সে সময়টুকু দিনের বেলা ফেলবেন। ভারী কোন ব্যায়াম করার ফলে শরীরের অনেক অঙ্গ প্রতঙ্গ প্রসারিত হয়ে থাকে। এদের রিলাক্স করার জন্য বেশ সময়ের প্রয়োজন। তাই দিনের যেকোনো সময়কে বেছে নিতে পারেন।








সন্ধ্যা বেলা:

কর্মক্ষেত্র থেকে বাড়ি ফেরার পথে কিছুটা পথ হেঁটেই আসুন।
হাঁটার সময় খেয়াল রাখবেন যেন ১০ মিনিটে ১ কিলোমিটার পথ যেতে পারেন।
সন্ধ্যা বেলা এক্সারসাইজ করতে পারেন। কিন্তু সে ক্ষেত্রে অবশ্যই এক্সারসাইজ করার আগে রিল্যাক্স করুন। যাতে এক্সারসাইজ করার সময় ক্লান্ত ভাব না থাকে। অনেকে অফিস থেকে ফিরে আসেন এ সময়ে। আবার অনেকে কিছুটা রাত করে ফেরেন। বাসায় এসে ফ্রেশ হয়ে একটু রেস্ট নিয়ে তবেই ব্যায়াম করা শুরু করতে পারেন। শরীরের কোন রকম কান্তিভাব থাকলে ব্যায়াম শুরু করবেন না। শরীরের কান্তিভাব আপনার মনঃসংযোগ দিতে বাঁধা দিবে। তাই হালকা কিছু খেয়ে নিয়ে কান্তিভাব দুর করে ফেলুন।
যোগব্যায়াম করার জন্য সন্ধ্যা সবচেয়ে উপযুক্ত সময়। ১৫ মিনিট নিরিবিলি পরিবেশে মেডিটেশন করলে আপনার মন ও শরীর দুটোই শান্ত হয়ে যাবে। এই ব্যায়াম গুলো ধীরে ধীরে করতে হয় বলে শরীরের উপর তেমন কোন চাপ পড়ে না। এছাড়াও ট্রেডমিল, সাইক্লিং ব্যবহার করেও ব্যায়াম করতে পারেন। নিজের পছন্দ অনুযায়ী গতি বাড়িয়ে নিতে পারেন। এসময় আপনি ট্রেডমিল বা সাইক্লিংও করতে পারেন।







জেনে নিন:

(১)ব্যায়ামের সঠিক সময়ের সঙ্গে খাওয়ার সময়ের সঠিক ভারসাম্য না থাকলে ব্যায়ামের সুফল পাওয়া যাবে না। সময় অনুযায়ী ব্যায়ামের ধরনও ভিন্ন হবে সেক্ষেত্রে অবশ্যই রুটিন করে নিন।

(২) যদি কর্মব্যস্ততার কারণে সারাদিন কোন ব্যায়ামই করা না হয় তাহলে সেটা আপনার শরীর ও মনের জন্য ভালো নয়। তাই ব্যায়াম একদমই না করার চেয়ে কিছু সময় করাটা অনেক ভালো।

(৩) ব্যায়াম করার পর শরীরের তাপমাত্রা, রক্ত চলাচল বেড়ে যায়। এর ফলে শরীর অধিক কর্মক্ষম থাকে এবং ক্লান্তভাব কেটে যায়। তাই ঘুমাতে যাওয়ার ঠিক আগেই ব্যায়াম করা উচিত নয়। ঘুমাতে যাওয়ার আগে কমপক্ষে ৩ ঘণ্টা হাতে নিয়ে ব্যায়াম করে নিতে পারেন।
শারীরিক ক্ষমতা ও বয়স অনুযায়ী ব্যায়াম করা উচিত, ব্যাক পেইন বা শ্বাসকষ্ট থাকলে সব ধরনের ব্যায়াম করতে পারবেন না। তাই ব্যায়াম শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর, বিশেষজ্ঞের পরামর্শ মতো খাবার এবং জীবন যাপনের সঠিক পদ্ধতিগুলোও মেনে চলুন।









Source: shajgoj.com

11
ফুচকা খাওয়ার সময় তেঁতুলের টক না হলে কী চলে! বিভিন্ন মুখরোচক খাবারের স্বাদ বাড়াতে তেঁতুলের জুড়ি মেলা ভার। আবার ঘরোয়া বিভিন্ন কাজেও ব্যবহৃত হয় তেঁতুল যেমন- গয়না পরিষ্কার কিংবা পিতলের বাসন চকচকে করতে।

জানলে অবাক হবেন, তেঁতুলের স্বাস্থ্য উপকারিতা অনেক। প্রতি ১০০ গ্রাম পাকা তেঁতুলে মোট খনিজ পদার্থ ২.৯ গ্রাম, খাদ্যশক্তি ২৮৩ কিলোক্যালোরি।





আরও থাকে আমিষ ৩.১ গ্রাম, চর্বি ০.১ গ্রাম, শর্করা ৬৬.৪ গ্রাম, ক্যালসিয়াম ১৭০ মিলিগ্রাম, আয়রন ১০.৯ মিলিগ্রাম, ক্যারোটিন ৬০ মাইক্রোগ্রাম ও ভিটামিন সি ৩ মিলিগ্রাম।

বদহজম থেকে শুরু করে শারীরিক নানা সমস্যার সমাধান মেলে তেঁতুলে। জেনে নিন তেঁতুল খেলে সারবে কোন কোন রোগ-





>> তেঁতুল খেলে শারীরিক বিভিন্ন সমস্যার সমধান মেলে। তেঁতুলের টক উপাদান গর্ভবতী নারীদের মর্নিং সিকনেস থেকে অনেকটাই মুক্তি দেয়। গর্ভাবস্থায় তেঁতুল খাওয়া নিরাপদ বলেই প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে।





>> গরমে কমবেশি অনেকেই বদহজমের সমস্যায় ভোগেন। এক্ষেত্রে এক কাপ পানিতে তেঁতুল ভিজিয়ে সামান্য লবণ, চিনি বা গুড় মিশিয়ে খেলে বদহজমের সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

তেঁতুলে থাকা ডায়েটারি ফাইবার হজম করতে সাহায্য করে। গ্যাসের সমস্যা থেকেও মুক্তি দিতে পারে তেঁতুল।






>> তেঁতুলে থাকা অ্যান্টি ইনফ্লেমেটরি উপাদান রক্তের শর্করার মাত্রাকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। ফলে ডায়াবেটিস অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে থাকে।



>> রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়াতে পারে তেঁতুল। ঋতু পরিবর্তনের সময় সর্দি-কাশি থেকে রেহাই পেতে গরম পানিতে তেঁতুল ও গোলমরিচ মিশিয়ে খেলে দারুণ উপকার মেলে।

তেঁতুলে থাকা ভিটামিন সি আর অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল উপাদান শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেয়।






>> তেঁতুল রক্তে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে। হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে এই ফল দারুণ উপকারী।




>> তেঁতুলে থাকা নির্দিষ্ট কিছু প্রোটিন গর্ভাবস্থায় কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে মুক্তি পেতে সাহায্য করে। গর্ভাবস্থায় অন্যতম প্রধান সমস্যা হচ্ছে ব্লাড প্রেসার। তেঁতুলের পটাশিয়াম এবং আয়রন ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে।



>> মস্তিষ্কের জন্যও উপকারী এই ফল। তেঁতুলের মধ্যে থাকা অ্যাসকরবিক অ্যাসিড, যা খাবার থেকে আয়রন সংগ্রহ করে বিভিন্ন কোষে তা পরিবহণ করে।



আয়রনের সঠিক পরিমাণ মস্তিষ্কে পৌঁছলে চিন্তা ভাবনার গতি আগের থেকে অনেক বেশি বেড়ে যায়।

>> ফাইবার সমৃদ্ধ ও কম চর্বিযুক্ত হওয়ায় তেঁতুল ওজন কমাতেও সাহায্য করে। এটি ফ্ল্যাভোনয়েড ও পলিফেনল সমৃদ্ধ। যা বিপাকক্রিয়া বাড়ায় ও ওজন কমাতে সহায়তা করে।





>> ক্যালসিয়ামের পরিমাণ ৫-১০ গুণ বেশি এই তেঁতুলে। যা হাড় ও দাঁতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

>> তেঁতুলের শরবত খেলে স্কার্ভি রোগ, কোষ্ঠকাঠিন্য, শরীরের জ্বালাপোড়া ভাব দূর হয়।

>> তেঁতুল রক্তের কোলস্টেরলের মাত্রাও নিয়ন্ত্রণ করে। রক্তে কোলেস্টেরল বেড়ে গেলে হৃদরোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়।

>> রোদ থেকে ঘরে ফিরে তেঁতুলের টক-মিষ্টি শরবত খেতে পারেন। এতে মুহূর্তেই শিরবে স্বস্তি।

>> রক্ত স্বল্পতা দূর করতেও কার্যকরী এক উপাদান হলো তেঁতুল। এতে প্রচুর আয়রন থাকে, যা নারীর স্বাস্থ্যের জন্য অনেক উপকারী।


Source: jagonews24.com

12
শীত এলেই বেড়ে যায় খুশকির সমস্যা। চুল ঝরা, রুক্ষ চুল, বিভিন্ন ধরনের স্ক্যাল্প ইনফেকশন জন্য বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দায়ী এ খুশকি।

খুশকি থেকে রেহাই পেতে বাজারে নানা ধরনের শ্যাম্পু ও লোশন পাওয়া যায়। কিন্তু সেগুলিতে থাকা বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদানের প্রভাবে কখনও কখনও উল্টে চুলেরই ক্ষতি হয়.







খুশকি হওয়ার বিভিন্ন কারণ

প্রকৃতপক্ষে খুশকি কোনো রোগ বা রোগের লক্ষণ নয়। মাথার লোমকূপে ময়লা জমে এবং ছত্রাকের প্রভাবে সাধারণত খুশকি হয়ে থাকে। নিম্নে খুশকি তৈরি হওয়ার কিছু অবস্থা বর্ণনা করা হলো।

১। শুষ্ক ত্বক

শীতের সময় আবহাওয়ায় আর্দ্রতা কমে যাওয়ার ফলে দেহের ত্বকের পাশাপাশি মাথার ত্বকও শুষ্ক হয়ে যাওয়ার কারণে খুশকি বেশী হয়ে থাকে। এছাড়া এসময় বাইরের ঠান্ডা বাতাস ও ঘরের তুলনামূলক গরম বাতাসের ফলে তাপমাত্রার যে অসামাঞ্জস্যতা দেখা যায় সে কারণেও খুশকি হতে পারে।


২। চুল যথেষ্ট পরিমাণে না আঁচড়ানো

চুল যথেষ্ট পরিমাণে না আঁচড়ালেও খুশকি হতে পারে। যদি চুল কম আঁচড়ানো হয় তাহলে মাথার ত্বকের চামড়ার ঝরে যাওয়ার প্রবণতা অনেক কমে যায়। ফলে মাথায় খুশকির সৃষ্টি হয়।


৩। মাথায় অতিরিক্ত তৈল ব্যাবহার

যারা মাথায় অতিরিক্ত তৈল ব্যবহার করে তাদের খুশকির সংক্রমণ বেশি হয়ে থাকে। অতিরিক্ত ব্যবহার করা তেল স্তুপ আকারে চুলের গোড়ায় জমা হয়ে পরবর্তীতে সেখানে ছত্রাকের প্রাদুর্ভাব ঘটে যার ফলে মাথায় খুশকির পরিমান বেড়ে যায়।

৪। শ্বেত প্রদর জাতীয় অসুখে আক্রান্ত হ

ঈস্ট জাতীয় ( শ্বেত প্রদর জাতীয় ) অসুখ বা এলার্জির সমস্যা আছে এরুপ ব্যক্তিদের খুশকির প্রবণতা বেশী লক্ষ্য করা যায়। মহিলাদের এ সমস্যা বেশী পরিলক্ষিত হয়। সূর্যের অতিবেগুনী রশ্মি ও ঈস্ট কাউন্টারএক্ট করে ও খুশকি হওয়ার প্রবণতাকে বাড়িয়ে তোলে। 




৫। পর্যাপ্ত পরিমাণে শ্যাম্পু না করা

যদি পর্যাপ্ত পরিমাণে শ্যাম্পু না করা হয় তাহলে মাথার ত্বক অপরিষ্কার থাকে। এর ফলেও মাথায় খুশকির উৎপত্তি হতে পারে।


৬। সঠিক খাদ্যাভাসের অভাব

সঠিক খাদ্যাভাসের অভাবও খুশকির অন্যতম কারণ। যদি গৃহীত খাবারে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন বি ও জিংক না থাকে তাহলেও খুশকি হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। এছাড়া অধিক পরিমাণে চর্বি জাতীয় খাদ্য গ্রহণ করলেও খুশকি হতে পারে।


৭। ম্যালেসেজিয়া নামক ফাঙ্গাসের পরিমাণ বেড়ে যাওয়া 

সকলের স্ক্যাল্পেই ম্যালেসেজিয়া নামক এক ধরণের ফাঙ্গাস অল্প পরিমাণে থাকে এবং তেমন কোন সমস্যার সৃষ্টি করে না। তবে মাথার ত্বকে ফাঙ্গাসটির পরিমাণ অতিরিক্ত বেড়ে গেলে তা ত্বকের ক্ষরিত তেল শোষণ করে নেয়। এর ফলে স্ক্যাল্প অতিরিক্ত ত্বকীয় কোষ উৎপাদন করে থাকে। এ সকল অতিরিক্ত কোষ মৃত হলে স্ক্যাল্প ও চুলের তেলের সাথে মিশে খুশকির সৃষ্টি করে।




৮। অতিরিক্ত মানসিক চাপ

অতিরিক্ত মানসিক চাপও খুশকির একটি অন্যতম কারণ। যারা অতিরিক্ত চাপের মধ্যে থাকেন তাদের খুশকি হওয়ার প্রবণতা বেশি পরিলক্ষিত হয়।



৯। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়া

যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম তাদের খুশকি বেশি হয়ে থাকে। এছাড়া বিশেষ কিছু রোগ যেমন- পারকিন্সন ডিসিস, হৃদরোগ, স্ট্রোক, সেন্সিটিভ ত্বক ও ত্বকের সমস্যা (সোরিয়াসিস, একজিমা) ইত্যাদি যাদের রয়েছে তাদেরও খুশকির প্রবণতা বেশি লক্ষ্য করা যায়। কিছুদিন আগের একটি গবেষণায় পাওয়া যায় যে ১০.৬% মানুষ যাদের এইচ.আই.ভি আছে তাদের খুশকির সমস্যা বেশি হয়ে থাকে।



১০। পানির সমস্যার কারণে

অনেকসময় পানির সমস্যার কারণেও খুশকি হতে পারে। যদি পানিতে ক্লোরিনের পরিমাণ বেশি থাকে তাহলে ত্বক তাড়াতাড়ি শুষ্ক হয়ে যায় যা মাথায় খুশকির কারণ হয়ে ওঠতে পারে।


খুশকির চিকিৎসাঃ

মাথার ত্বকে ম্যালেসেজিয়া নামক ফাঙ্গাসের পরিমাণ কমিয়ে আনা বা নস্ট করতে পারলেই খুশকি কমে যাবে। তাই খুসকি দূর করার জন্য ডাক্তারগণ একমাত্র বিজ্ঞান ভিত্তিক ছত্রাকনাশক শ্যাম্পু কিটাকোনাজল (Ketoconazole 2%) ব্যবহারের উপদেশ দিয়ে থাকেন।

 

এই শ্যাম্পু ব্যবহারের নিয়ম হলো খুশকি দূরীকরণে চুল ধুয়ে তাতে কিটোকোনাজল ২% শ্যাম্পু লাগিয়ে ৫ মিনিট অপেক্ষা করতে হবে। এরপর চুল ভালভাবে ধুয়ে নিতে হবে। এভাবে সপ্তাহে ২ বার করে ২-৪ সপ্তাহ ব্যবহারে খুশকি কমে যাবে। যাদের নিয়মিত খুশকি হয় তারা ১ বা ২ সপ্তাহ পর পর প্রতিরোধক হিসেবে এই শ্যাম্পু ব্যবহার করতে পারেন। এর ফলে তারা দীর্ঘদিন খুশকিমুক্ত থাকতে পারবেন। এছাড়াও শ্যাম্পুটি তৈলাক্ত সেবাসিয়াস গ্রন্থি থেকে ত্বকের তৈলাক্ত উপাদান নিঃসরণ কমিয়ে আনে যার ফলে খুশকি দূর হয়। এছাড়া এর ফলে মাথার ত্বকে চুলকানি কমে, চুল পড়া বন্ধ হয় এবং আক্রান্ত ব্যক্তি বিব্রতকর পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে পারে। যদি কারও ফাঙ্গাল বা অন্যান্য একজিমা জাতীয় অসুখ না থাকে তাহলে এই শ্যাম্পু ব্যবহারে খুশকি ৯৫% ভাল হয়ে যাওয়ার কথা। অবশ্য যদি ইনফেকশন হয়ে যায় বা চুলকানি বেশি হয় তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ক্রিম বা লোশন ব্যবহার করা লাগতে পারে।


আসুন জেনে নেওয়া যাক চুলের খুশকি দূর করতে ৬ঘরোয়া উপায়




১) নারকেল তেল: নারকেল তেল খুশকির প্রকোপ কমাতে খুবই কার্যকরী। এ ছাড়া চুলে গোড়া ময়েশ্চারাইজ করে খুশকি এবং স্ক্যাল্প ইনফেকশনের সম্ভাবনাও অনেক কমিয়ে দেয়। সপ্তাহে দু’বার চুলের গোড়ায় নারকেল তেলের মালিশ করলে দ্রুত উপকার পাওয়া যায়।


২) পেঁয়াজের রস: দুটো পেঁয়াজ ভাল করে বেটে এক মগ জলে মিশিয়ে নিয়ে মাথায় এই রস ভাল করে লাগিয়ে মালিশ করুন। কিছুক্ষণ পর ধুয়ে ফেলুন। এ ভাবে সপ্তাহে দু’বার পেঁয়াজের রস মাথায় মাখলে খুশকির সমস্যায় দ্রুত উপকার পাওয়া যাবে।


৩) টকদই: খুশকি দূর করতে টকদই মাথার ত্বকে ভালোভাবে ম্যাসাজ করুন। ১০ মিনিট রেখে ভাল করে ধুয়ে ফেলুন।


৪) লেবুর রস: দুই টেবিল-চামচ লেবুর রস অল্প জলের সঙ্গে মিশিয়ে মাথার ত্বকে ভালোভাবে ম্যাসাজ করুন। ২-৫ মিনিট ম্যাসাজ করার পর চুল ধুয়ে নিন। সপ্তাহে দু’বার এইভাবে চুলে লেবু ব্যবহার করুন।


৫) রিঠা: চুলের সৌন্দর্য বাড়াতে রিঠার জুরি মেলা ভার। খুশকির সমস্যার সমাধানেও এটি বেশ কার্যকর। রিঠা পাউডার বা রিঠা সিদ্ধ জল চুলের ত্বকে লাগিয়ে ঘণ্টা খানেক রেখে ভালমতো ধুয়ে ফেলুন। এ ভাবে সপ্তাহে দু’বার রিঠা মাথায় মাখলে খুশকির সমস্যায় দ্রুত উপকার পাবেন।





৬) মেথি: মেথি সারারাত জলে ভিজিয়ে রেখে সকালে ছেঁকে নিয়ে ভাল করে বেটে নিন। ছেঁকে নেয়া জল ফেলে দেবেন না। এবার বেটে নেয়া মেথি চুলের গোঁড়ায় মাথার ত্বকে ভাল করে লাগিয়ে নিন। ঘণ্টা খানেক রেখে চুল ভাল করে ধুয়ে ফেলুন। চুল ধোয়ার পর মেথি ভিজিয়ে রাখা জল দিয়ে আরও একবার চুল ধুয়ে নিন। এ ভাবে সপ্তাহে দু’বার মেথি-মালিশ করুন।






Source: jugntor.com


13
শীতকাল এসে গিয়েছে মানেই চুলে খুসকি, চুল পড়ার মতো সমস্যার বাড়বাড়ন্ত। এ ছাড়া সময়ের সঙ্গে সঙ্গে চুলের রং পাল্টে যাওয়া, নখ ভঙ্গুর হয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণও সকলের জীবনেই দেখা দেয় কোনও না কোনও সময়ে। এক কথায় এর সমাধান বলতে গেলে, শরীরে প্রোটিন-ভিটামিনের নিয়মিত জোগানের কথাই বলতে হয়। তবে শুধু ডায়েটই কি যথেষ্ট? না কি ত্বক-চুল ভাল রাখতে আলাদা সাপ্লিমেন্টের প্রয়োজন রয়েছে? ত্বক বা চুলের সমস্যায় আলাদা করে কোন ধরনের প্রোটিন বা ভিটামিন কার্যকর? এখানেই বিশেষ ভাবে এসে পড়ে বায়োটিনের কথা।






ভিটামিন বি পরিবারের সদস্য

বায়োটিন অর্থাৎ ভিটামিন বি সেভেন। ভিটামিন এইচ বলেও পরিচিত বি কমপ্লেক্স গ্রুপের এই ভিটামিন। দেহের বিপাকে সাহায্য করে বায়োটিন। মূলত প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট, ফ্যাটি অ্যাসিড ও অন্যান্য উপাদান দেহে শোষণ করতে সাহায্য করে বায়োটিন। খাবার পরিপাকের সময়ে তা বিশ্লেষণ করে শক্তিতে রূপান্তরিত করতেও সাহায্য করে এই ভিটামিন। ওমেগা থ্রি-র মতো এসেনশিয়াল ফ্যাটি অ্যাসিড গ্রহণ করলেও যদি শরীরে বায়োটিনের অভাব থাকে, তা শোষিত হবে না। আবার শুধু বায়োটিন সাপ্লিমেন্টও কোনও কাজে লাগে না, যতক্ষণ না তা অন্যান্য ভিটামিন ও প্রোটিনের সহযোগিতা পায়।








বায়োটিনের অভাব ও ফলাফল

বংশগত কিংবা অন্যান্য শারীরিক কারণ ছাড়া যদি চুলে অকালপক্বতা, চুল পড়ে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়, হতে পারে তা বায়োটিনেজ় এনজ়াইম ডেফিশিয়েন্সির কারণে দেখা দিচ্ছে, জানালেন ডা. ধর। প্রোটিন থেকে বায়োটিন বিশ্লেষণ এবং রিসাইকল বাধাপ্রাপ্ত হয় এ ক্ষেত্রে।


চুল-নখ-ত্বকের বন্ধু

চুলের বৃদ্ধি, চুল মজবুত রাখায় কেরাটিনের উপযোগিতা অনেকেরই জানা। বায়োটিন এই কেরাটিনের কর্মক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। তবে চুলের উপরে বায়োটিনের প্রভাব নিয়ে গবেষণায় দেখা গিয়েছে, শুধু বায়োটিন সাপ্লিমেন্ট গ্রহণে চুলের আলাদা করে তেমন উপকার হয় না। দরকার অন্যান্য প্রোটিন-ভিটামিন-ক্যালশিয়ামের জোগানও। শুধু চুল বা ত্বক ভাল রাখতেই নয়, আমাদের স্নায়ুতন্ত্র, লিভার, কিডনির কার্যকারিতা নিয়ন্ত্রণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে ভিটামিন বি সেভেন, অর্থাৎ বায়োটিনের। তাই ব্যালান্সড ডায়েটের মাধ্যমে শরীরে এর জোগান জারি রাখার পরামর্শ দিলেন ক্লিনিক্যাল নিউট্রিশনিস্ট হিনা নাফিস। ‘‘ত্বক বা চুলে সমস্যা দেখা দিলেই সাধারণত আমরা এ ব্যাপারে সচেতন হতে শুরু করি। কিন্তু মাথায় রাখতে হবে, কোনও ভিটামিন বা প্রোটিন ট্রিটমেন্টই একা কিছু করতে পারে না, যতক্ষণ না তাতে ভারসাম্য আসে। সিদ্ধ ডিম, দুধ, মাটন লিভারের মতো খাবারে ভিটামিন বি সেভেনের মাত্রা বেশি। ফুলকপি, বাঁধাকপির মতো মরসুমি আনাজেও পাওয়া যায় তা। অয়েস্টার বা মাশরুম আমাদের রোজকার খাদ্যতালিকায় খুব বেশি থাকে না, তবে এগুলি বায়োটিনের উৎকৃষ্ট উৎস,’’ বললেন হিনা।




বেশি পরিমাণে মিষ্টি, ভাজাভুজি ও মশলাদার খাবার খেলে তার সরাসরি প্রভাব ত্বক ও চুলে পড়ে— এ কথা অনেকেরই জানা। হিনা জানালেন, এর নেপথ্য কারণ হল, বায়োটিন ও অন্যান্য কমপ্লেক্স ভিটামিন কাজ করতে পারে না এর ফলে। প্রোটিনের বিশ্লেষণও বাধা পায়। বায়োটিনের জোগান অক্ষুণ্ণ রাখতে আমন্ড, কলা, চেরির মতো ফল খাদ্যতালিকায় রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন হিনা।

ভিটামিন বি সেভেন বা বায়োটিন জলে দ্রাব্য। ভিটামিন সি-র মতো এটিরও কার্যক্ষমতা কমে যায় উচ্চ তাপমাত্রায়। কাঁচাও নয়, ‘ওভারকুকড’ও নয়, রান্না করতে হবে এমন উপায়ে, যাতে এর খাদ্যগুণ যথাযথ ভাবে বিশ্লেষিত হয় ও শরীর তা গ্রহণ করতে পারে।


বায়োটিনেজ় উৎসেচকের অভাবে ত্বক ও চুলের সমস্যা গুরুতর হতে শুরু করে। তখন চিকিৎসকরা সাপ্লিমেন্টের আকারে বায়োটিন গ্রহণ করতে বলেন অনেক সময়ে, মাল্টিভিটামিন ও নির্দিষ্ট ডায়েটের সঙ্গে। সাপ্লিমেন্ট সাধারণত ট্যাবলেট, ক্যাপসুল ইত্যাদি আকারে পাওয়া যায় ওষুধের দোকানে। তবে যে কোনও সাপ্লিমেন্ট একটানা না খাওয়াই ভাল। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী খাবেন।

ত্বক-চুল-নখের মতো শুধু বহিরাবরণের যত্নে নয়, বায়োটিন শরীরের বন্ধু। এর উৎস ও জোগান সম্পর্কে সম্যক ধারণা থাকলে চেনা সমস্যারও সমাধান খুঁজে পাবেন অচিরেই।





Source: anandabazar.com


14
শীতকালে হাঁপানি ও ব্রঙ্কাইটিসের রোগীদের প্রায় প্রতিদিনই ইনহেলার ব্যবহার করতে হয়। নানা রকমের ইনহেলারের মধ্যে একেকটির ব্যবহারবিধি একেক রকম। ইনহেলারের ওষুধটি ফুসফুসে পৌঁছাতে এবং কার্যকরভাবে কাজ করার জন্য ইনহেলারের সঠিক ব্যবহারের পদ্ধতি জানা প্রয়োজন।






ইনহেলার ব্যবহারের পদ্ধতি

১. ঢাকনা খুলে ফেলুন।

২. মুখের পাত্রটির ভেতরটা পরিষ্কার রয়েছে কি না, নিশ্চিত করুন।

৩. ব্যবহারের আগে প্রতিবার ইনহেলারটি ১০ থেকে ১৫ বার জোরে ঝাঁকান।

৪. চিবুকটি উঁচু করে সোজা সামনে তাকান।

৫. শ্বাস ছাড়ুন। এরপর ধীরে ধীরে শ্বাস নিন।

৬. মাউথপিসটি ঠোঁট দিয়ে চেপে ধরুন, যেন একটি টাইট সিল তৈরি হয়।

৭. মুখ দিয়ে ধীরে ধীরে যখন শ্বাস নিতে শুরু করবেন, তখন ইনহেলারটি একবার চাপ দিন।



ইনহেলার পরিষ্কার করুন

প্রতিদিন ইনহেলার পরিষ্কার করাও খুব জরুরি। মাউথপিসটি গরম পানি দিয়ে ধুয়ে নিন। পাফার থেকে ঠিকমতো ওষুধ বের হলে আর কোনো কিছু করার দরকার নেই। পাফারের মুখ বন্ধ হয়ে গেলে প্লাস্টিকের বাইরের আবরণ ধাতব ক্যানিস্টার থেকে আলাদা করে কলের পানিতে ধুয়ে নিতে হবে। এরপর ঝেড়ে বাড়তি পানি ফেলে দিয়ে শুকিয়ে নিন। ধাতব ক্যানিস্টারটি কখনো ধোবেন না।

খেয়াল রাখবেন, ক্যানিস্টার লাগানোর আগে মাউথপিসে কোনো পানি যেন না থাকে।






কত দিন ব্যবহার করা যায় ইনহেলার?

প্রতিটি ইনহেলারের মেয়াদ ফুরিয়ে যাওয়ার একটি নির্দিষ্ট সময় থাকে। এক বছরের বেশি একই ইনহেলার ব্যবহার করা উচিত নয়। কেনার সময় দেখে নিতে হবে মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ। মেয়াদোত্তীর্ণ ইনহেলার ব্যবহার করবেন না।




কোথায় রাখবেন ইনহেলার?

ইনহেলার খুব উষ্ণ বা আর্দ্র জায়গায় রাখবেন না। বাথরুম বা রান্নাঘরে একেবারেই রাখবেন না। অপেক্ষাকৃত শীতল ও শুষ্ক জায়গায় ইনহেলার রাখা প্রয়োজন।



Source: *ডা. নওসাবাহ্ নূর: মেডিসিন বিশেষজ্ঞ, পপুলার মেডিকেল কলেজ, ঢাকা

15
Skin Care Products / বয়ঃসন্ধিকালে ব্রণ
« on: January 05, 2023, 12:14:10 PM »


বয়ঃসন্ধিকালে একটি বড় সমস্যা ব্রণ। সাধারণত ১৩ থেকে ২০ বছর বয়সের ছেলেমেয়েদের মধ্যে এ সমস্যা সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। ২০ বছর বয়সের পর রোগটা কমে এলেও কিছু মেয়ের ক্ষেত্রে ৩০ বছর বয়স পর্যন্ত এ রোগ দেখা যায়।

ত্বকের ফলিকলের এক প্রকার দীর্ঘমেয়াদি রোগ ব্রণ। এটি মুখ, ঘাড়, কাঁধ, বুক বা পিঠ দেহের বিভিন্ন অংশে হতে পারে। এসব জায়গায় ছোট ছোট দানা, ছোট ছোট ফোঁড়া, নোডিউল, সিস্ট হতে পারে।

তবে কিছু বিষয় আছে, যা ব্রণ দূর করতে অবশ্যই মনে রাখা প্রয়োজন। মেডিকেল অবজারভার দিয়েছে এ বিষয়ে কিছু পরামর্শ।


১. কখনো ব্রণ ধরা যাবে না বা খোটাখুটি করা যাবে না, যতই যন্ত্রণা দিক না কেন। হাতের স্পর্শ ব্রণগুলোতে আরো বড় ধরনের সমস্যা তৈরি করতে পারে, প্রদাহ বাড়িয়ে দিতে পারে। এতে ত্বকে স্থায়ী দাগ পড়ে যেতে পারে।




২. ত্বকের তেল উৎপাদন প্রতিরোধের জন্য দিনে অন্তত দুবার ক্ষারহীন সাবান এবং হালকা গরম পানি দিয়ে মুখ আলতোভাবে ধুয়ে নেবেন। বেশি ঘষাঘষি করবেন না। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে।




৩. বিশেষজ্ঞরা বলেন, চর্বিযুক্ত খাবার (যেমন পিৎজা, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, চকলেট অথবা সফট ড্রিংকস) ব্রণ তৈরিতে সরাসরি ভূমিকা না রাখলেও সমস্যাকে বাড়িয়ে তোলে এবং দীর্ঘস্থায়ী করে। তাই এসব খাবার এড়িয়ে যাওয়াই ভালো।


৪. মাথার চুল যেন মুখে এসে ব্রণের কাছে লাগতে না পারে। ছেলেরা তো চুল ছোটই রাখে, তবে মেয়েরা চুল বেঁধে রাখবেন। কেননা, এ থেকে প্রদাহ সৃষ্টি হতে পারে।


৫. অনেক মেয়ের ঋতুস্রাবের কিছুদিন আগে ব্রণ হয়। একে বলা হয় প্রি-মেনস্ট্রুয়াল একনে বা ঋতুস্রাবের আগে ব্রণ। ১০ জনের মধ্যে সাতজন মেয়েরই হরমোনের পরিবর্তনের কারণে এ সমস্যা হয়। এ সময়ে প্রচুর পরিমাণ পানি করুন।

 
৬. ব্রণ রোধে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ শাকসবজি, ফল খেতে হবে। তৈলাক্ত, ঝাল, ভাজাপোড়া খাবার এড়িয়ে যাওয়াই ভালো।

তবে ব্রণ পেকে গেলে বা অতিরিক্ত হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

Source: ntvbd.com/

Pages: [1] 2